ইরান তার পারমাণবিক নীতিতে পরিবর্তন আনতে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছেন মোহসেন রেজায়ী। আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা বলেন।
রেজায়ী জানান, সরকার কিংবা সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ নীতি পরিবর্তনের কোনো অনুমোদন দেয়নি। দেশটির বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনার পরই মূলত পারমাণবিক নীতি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থার ব্যাপক পরিদর্শন এবং অনলাইন নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন সত্ত্বেও এই হামলাগুলো চালানো হয়েছিল।
ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা পরিদর্শন এবং অসংখ্য প্রতিবেদন ও নথিপত্র দেশের পারমাণবিক কার্যক্রমের শান্তিপূর্ণ স্বরূপ প্রমাণ করেছে। এ ছাড়া মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানো একটি নতুন চিঠির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তেহরান বার্তাটি গ্রহণ করে প্রাথমিক পর্যালোচনা সম্পন্ন করেছে, তবে এখনো কোনো জবাব দেয়নি। রেজায়ী জানান, পূর্ববর্তী যোগাযোগের তুলনায় এই বার্তার ধরনে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
তিনি যুক্তি দেন যে, এই পরিবর্তন ইরানি জাতির শক্তি ও বিজয়কে সুসংহত করার বিষয়টি প্রমাণ করে। রেজাযীর ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরান সাতটি প্রধান শর্তের একটি কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে এবং অতিরিক্ত দাবিগুলো এই সংখ্যা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রথমত এই শর্তগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। পারমাণবিক প্রতিশ্রুতি এবং পরমাণু বিস্তার রোধ চুক্তির মতো অন্যান্য বিষয়গুলো দ্বিতীয় পর্যায়ে বিবেচনা করা যেতে পারে। এই অগ্রগতি মূলত ইরানের পারমাণবিক অধিকারের পূর্ণ স্বীকৃতির ওপর নির্ভর করে।
হোরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে রেজায়ী বলেন, ইরানের নির্ধারিত শর্তগুলোই এই জলপথের যৌথ করিডোর ব্যবস্থাপনাকে সুনির্দিষ্ট করেছে। এই কাঠামোর আওতায় সমস্ত নৌযান চলাচল করবে ইরানি তত্ত্বাবধানে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পরই এই মন্তব্য এল। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, শান্তি আলোচনা পুনরুজীবিত করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স রেজাযীর কাছে বার্তা পাঠিয়েছিলেন।
অবশ্য ট্রাম্প এই দাবি অস্বীকার করে জানান, ইরানের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করার মধ্যেই ভ্যান্সের ভূমিকা সীমিত ছিল। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং দোহায় পরোক্ষ আলোচনায় অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে।
এই কূটনৈতিক উদ্যোগগুলোর লক্ষ্য হলো পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং প্রণালীতে চলাচল নিরাপত্তা বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। পরবর্তীতে একটি এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির আগে তেহরান ইসরায়েল এবং অঞ্চলের মার্কিন ভূখণ্ডে পাল্টা আঘাত হানে।
হোরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান গত ১৮ জুন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। তবে জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে সেই চুক্তির বাস্তবায়ন থমকে আছে।
