জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটে রূপ নেওয়ার পর মিলানে ৫০০ সেনা মোতায়েন এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। প্রধানমন্ত্রী জর্চিয়া মেলোনির সরকার এই অস্থিরতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
মিলানের দুওমো চত্বরের আশেপাশে গত সপ্তাহের ছুটির দিনে মুখঢাকা যুবকেরা ডাস্টবিনে আগুন ধরিয়ে দেয়, দোকানপাট লুট করে এবং জানালার কাঁচ ভেঙে ফেলে। এই ঘটনার পর পুলিশ ২৭১ জন তরুণকে আটক করে। প্রাথমিকভাবে শান্তিপূর্ণ এই বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে।
পুলিশ জানিয়েছে যে এই ঘটনায় ২৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক ও ১৩ জন বিদেশি নাগরিকসহ মোট ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও ২৮ জনের বিরুদ্ধে বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি জানিয়েছেন যে রাষ্ট্রের ওপর এই হামলার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সহিংসতা রোধে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। প্রধানমন্ত্রী জর্চিয়া মেলোনির সভাপতিত্বে শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের এক বৈঠকের পর তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইতালীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে প্রশাসন অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিরোধমূলক আটকের মেয়াদ বৃদ্ধি, গ্যাং সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং জনশৃঙ্খলা পরিপন্থী বলে বিবেচিত ব্যক্তিদের জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা জারির মতো কঠোর নিরাপত্তা বিধি দ্রুত অনুমোদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইতালীয় বার্তা সংস্থা আনসা জানিয়েছে যে বিবেচনাধীন নিরাপত্তা পদক্ষেপগুলো মূলত মারানজা নামে পরিচিত অভিবাসী দ্বিতীয় প্রজন্মের তরুণদের লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে, যারা প্রান্তিক অঞ্চলের গ্যাংগুলোর জন্য এই স্লোগান ব্যবহার করে।
ইতালির দক্ষিণাঞ্চলে জ্বালানি তেলের দামের প্রতিবাদে ট্রাকচালকদের বিক্ষোভের পর মেলোনির জোট সরকার সড়ক অবরোধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান করার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।
বিরোধী দলের রাজনীতিকেরা সরকারকে নিরাপত্তার বিষয়টি রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। সমালোচকদের মতে দেশের নেতৃত্ব প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষা, আবাসন এবং জীবনযাত্রার মতো মূল সমস্যাগুলো সমাধান করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
মিলানের গ্যাডেরিয়া ভিত্তোরিও ইমানুয়েল এবং এর আশেপাশের ফ্যাশন অঞ্চলে অবস্থিত চ্যানেল, টিফানি ও ডিওরের মতো বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের প্রদর্শনী কক্ষ থেকে পণ্য সরিয়ে নিয়েছে।
লুটপাট হওয়া অন্যান্য দোকানের মধ্যে রয়েছে স্পোর্টস খুচরা বিক্রেতা ডেক্যাথলন ও আর্কটেরিক্স এবং মোবাইল ফোন অপারেটর ভোডাফোন। আগামী শনিবার আরও বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
গত সপ্তাহের ছুটির দিনে বোলোগনিয়া, ব্রেশিয়া, বার্গামো এবং তুরিনের মতো ইতালির অন্যান্য উত্তরাঞ্চলীয় শহরগুলোতেও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশ সেখানে ২৮ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায়।
এদিকে ফ্রান্সে পরিকল্পিত বিক্ষোভের সময় সামরিক বাহিনী মোতায়েন করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন নুনেজ, যা মূলত পুলিশ ও জেন্ডারমেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করবে।
ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোরনু পার্লামেন্টে জানিয়েছেন যে সহিংস দাঙ্গার পর দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আসন্ন বিক্ষোভগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি ব্যাপক থাকবে।
ফরাসি কর্তৃপক্ষ প্যারিস, বোর্দো, লিলি এবং নিসসহ বেশ কয়েকটি শহরে আংশিক কারফিউ ঘোষণা করেছে। প্যারিস পুলিশ প্লেস দে লা রিপাবলিক এবং কেন্দ্রিয় লেস হ্যালস শপিং চত্বর এলাকায় কারফিউ বলবৎ করেছে।
লিমেজেসের একটি ঐতিহাসিক টাউন হল পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় পেট্রল ক্যান, বোতল, মুখোশ ও হেলমেট বহনের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
