সৌদি আরবের জেদ্দায় কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঐতিহাসিক হজ টার্মিনালে বৃহস্পতিবার বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় ‘ইসলামিক আর্টস বিয়েনাল ২০২৬’। সারা বিশ্বের মুসলিম শিল্পীদের তৈরি সমকালীন শিল্পকর্ম এবং শত বছরের পুরনো ঐতিহাসিক নিদর্শনের এক অনন্য সংমিশ্রণ দেখা গেছে এই প্রদর্শনীতে। এবারের বিয়েনালের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আওয়াল বাইত’ বা প্রথম ঘর, যা মূলত পবিত্র কাবা শরীফ এবং মুসলিম উম্মাহর আধ্যাত্মিক কেন্দ্রবিন্দুকে নির্দেশ করে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে এবারের প্রদর্শনীতে মক্কা ও মদিনার বাইরে প্রথমবারের মতো কিছু বিরল পাণ্ডুলিপি ও প্রত্নতাত্ত্বিক বস্তু সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
বিয়েনালের কিউরেটররা জানিয়েছেন যে এই আয়োজনে মোট ৩০০টিরও বেশি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে কাতার মিউজিয়াম, কুয়েতের দার আল-আসার আল-ইসলামিয়া এবং গ্রিসের বেনাকি মিউজিয়াম থেকে সংগৃহীত প্রাচীন ক্যালিগ্রাফি ও কার্পেট রয়েছে। একই সঙ্গে তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া এবং ইরান থেকে আসা তরুণ শিল্পীরা তাদের আধুনিক ডিজিটাল আর্ট এবং বড় আকারের স্কাল্পচার বা ভাস্কর্য প্রদর্শন করছেন। আরব্য সংবাদ সংস্থা আরব নিউজ জানিয়েছে যে এই প্রদর্শনী কেবল একটি শিল্প প্রদর্শনী নয় বরং এটি মুসলিম সভ্যতার বৈচিত্র্য ও ঐক্যের এক জীবন্ত প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন যে ২০৩০ ভিশনের আওতায় জেদ্দাকে বিশ্ব শিল্পকলার অন্যতম রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার এটি একটি বড় পদক্ষেপ।
প্রদর্শনীর একটি বিশেষ অংশে পবিত্র কাবা শরীফের পুরনো গিলাফ এবং মক্কার ইতিহাসের বিভিন্ন ধাপের আলোকচিত্র রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীরা এখানে ক্যালিগ্রাফির বিবর্তন এবং ইসলামিক স্থাপত্যের জ্যামিতিক নকশার কারুকাজ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। আয়োজকরা জানিয়েছেন যে আগামী তিন মাসব্যাপী এই প্রদর্শনী চলবে এবং প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহার করে দর্শনার্থীদের জন্য ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে প্রাচীন মক্কার পরিবেশ অনুভব করার ব্যবস্থাও করা হয়েছে যা তরুণ প্রজন্মের দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে।
শিল্প সমালোচকদের মতে এবারের বিয়েনাল বিশ্বজুড়ে ইসলামিক শিল্পকলার ধারণা বদলে দেবে। আধুনিক পশ্চিমা শিল্পের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কীভাবে আধ্যাত্মিকতাকে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা যায় তা এখানে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া একজন মিশরীয় শিল্পী বলেন যে এটি আমাদের ঐতিহ্যকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার সেরা মঞ্চ। এদিকে বিয়েনাল উপলক্ষে জেদ্দায় পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। হোটেল ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। শিল্পকলা প্রেমীদের জন্য এটি ২০২৬ সালের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হতে যাচ্ছে।
