চলতি দশকের শেষ নাগাদ বৈশ্বিক ইসলামি অর্থ খাতের সম্পদ ১০.৫ ট্রলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর প্রাক্কলন করা হয়েছে। ২০২৫ সালে এই খাতের সম্পদের পরিমাণ ছিল ৬.৫ ট্রলিয়ন ডলার, যার অর্থ হলো এই সময়ে প্রবৃদ্ধি ঘটবে ৬১.৫ শতাংশ। ইসলামিক করপোরেশন ফর দ্য ডেভেলপমেন্ট অব দ্য প্রাইভেট সেক্টর এবং লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত ২০২৬ সালের ইসলামি ফাইন্যান্স ডেভেলপমেন্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে ৯ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হতে পারে।
ইসলামি ফাইন্যান্স ডেভেলপমেন্ট সূচকে ১৩৬ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে মালয়েশিয়া। এর পরেই রয়েছে ১১৩ পয়েন্ট পাওয়া সৌদি আরব এবং ৯৫ পয়েন্ট পাওয়া সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই তালিকার সেরা পাঁচ দেশের বাকি দুটি হলো ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান। বিশ্বব্যাপী এই সূচকের গড় স্কোর পৌঁছেছে ১২ পয়েন্টে, যা আওতাভুক্ত ১৪০টি দেশের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের উন্নতি নির্দেশ করে।
২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী সুকুক ইস্যুর পরিমাণ ১৪.৫ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ২৯১.৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মোট বকেয়া মূল্যের দিক থেকে সৌদি আরব বিশ্বের বৃহত্তম বাজার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। মূলত সৌদি আরব এবং মালয়েশিয়া মিলেই বিশ্বব্যাপী মোট বকেয়া সুকুকের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের জোগান দিয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলোতে সার্বভৌম সুকুক ইস্যুর পরিমাণ ১.৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে এবং বেনিন তাদের প্রথম ৫০ কোটি ডলারের সুকুকের বিপরীতে ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি আবেদন পেয়েছে।
কায়রোভিত্তিক আন্তর্জাতিক কৌশলগত গবেষণা কেন্দ্রের অর্থনীতিবিদ খালেদ রামাদান জানান যে, সৌদি আরবের বর্তমান বাজার অবস্থান দেশটির বৃহত্তর অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণকে সহায়তা করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন যে, তেল খাতের ওপর নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবহন, পর্যটন এবং শিল্প খাতের দীর্ঘমেয়াদী অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন করতে পারে সুকুক। পাশাপাশি সরকারি সহায়তা, ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং ডিজিটালাইজেশনকে প্রবৃদ্ধির প্রধান অনুঘটক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন রামাদান।
২০২৫ সালে ৮৪টি দেশজুড়ে বৈশ্বিক ইসলামি ব্যাংকিং খাতের সম্পদ ৮ শতাংশ প্রসারিত হয়েছে। তবে বাংলাদেশে আর্থিক অনির্চলতা ও সুশাসনের অভাবের কারণে ব্যাংকিং খাতের সম্পদ প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশে নেমে আসে, যার ফলে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে। আঞ্চলিক সংঘাতের মুখেও শক্তিশালী মূলধন এবং সার্বভৌম সহায়তার কারণে উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার ব্যাংকগুলো তাদের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পেরেছে।
১২০০টিরও বেশি অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, মাইক্রোফাইন্যান্স ফার্ম এবং ফিনটেক ব্যবসাসহ অন্যান্য ইসলামি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ২০২৫ সালে এই খাতের সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ৫৪টি দেশজুড়ে বৈশ্বিক তাকাফুল বা ইসলামি বীমা সম্পদ ৯ শতাংশ বেড়ে ১৪৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া আংশিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারের ইতিবাচক পারফরম্যান্সের সুবাদে ইসলামি তহবিলের সম্পদ ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসন বা ইএসজি সুকুক ইস্যুর পরিমাণ ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড ২৩.৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঋণদাতারা স্থায়িত্বমূলক সুকুক ইস্যু করেছে এবং মালয়েশিয়া গত জানুয়ারি মাসের মধ্যে ৪ বিলিয়ন রিঙ্গিতেরও বেশি মূল্যের ৩০টি জলবায়ু-সম্পর্কিত প্রকল্প বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
অবশ্য রামাদান সতর্ক করে বলেছেন যে, বিভিন্ন দেশের পরস্পরবিরোধী নিয়ন্ত্রক ও শরিয়াহ মানদণ্ড, সেকেন্ডারি মার্কেটের সীমিত তারল্য, উচ্চ ইস্যু খরচ এবং বিশেষায়িত পেশাজীবীর ঘাটতি এই খাতের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
