নাইজেরিয়ার শীর্ষ ধনী আলিকো ডাংকোটে নামিবিয়ায় আড়াই বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি সংরক্ষণ ও আঞ্চলিক পাইপলাইন প্রকল্প শুরু করেছেন। বুধবার ওয়ালভিস বে-তে এই উদ্যোগ নেওয়া হয় যা দক্ষিণ আফ্রিকার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।
আফ্রিকার সবচেয়ে ধনী এই ব্যবসায়ীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিভিন্ন জ্বালানি উদ্যোগের অংশ এটি। এমন এক মহাদেশে তিনি তার সাম্রাজ্য প্রসারিত করছেন যা আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল এবং চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে প্রভাবিত।
ডাংকোটে নাইজেরিয়ায় আফ্রিকার সবচেয়ে বড় শোধনাগার পরিচালনা করেন। প্রতিদিন সাত লাখ ব্যারেল ধারণক্ষমতার ওই প্ল্যান্টটি বর্তমানে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। মহাদেশটির অপর প্রান্তে কেনিয়ায় আরেকটি সমপরিমাণ ক্ষমতার শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নামিবিিয়ার প্রেসিডেন্ট নেতুম্বো নান্দি-নদাইতোয়াহ। ডাংকোটে জানান, এই পাইপলাইন প্রকল্প ছয়টি আফ্রিকান দেশের জ্বালানি স্বাধীনতা জোরদার করবে এবং ওয়ালভিস বে-কে জ্বালানি লজিস্টিকসের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে ডাংকোটে বলেন, নামিবিিয়ার জন্য এই উদ্যোগ লজিস্টিকস সংকট, উচ্চ শিপিং খরচ এবং তীব্র জ্বালানি অনিশ্চয়তা কমাবে। পাশাপাশি এটি অবকাঠামোগত গুদামজাতকরণ সুবিধাকেও উৎসাহিত করবে।
নতুন এই ট্যাঙ্ক ফার্মে প্রায় ৬০ কোটি লিটার বা প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি সংরক্ষণ করা যাবে। এর মধ্যে ৩৬ কোটি লিটার ডিজেল থাকবে এবং বাকি অংশ পেট্রোলের জন্য বরাদ্দ করা হবে।
সাংবাদিকদের ডাংকোটে জানান, আগামী ১৮ থেকে ২০ মাসের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন হবে। নামিবিিয়ার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি নামকর পরিচালিত সাড়ে সাত কোটি লিটার ধারণক্ষমতার বিদ্যমান জাতীয় জ্বালানি সংরক্ষণাগারের তুলনায় এই নতুন সুবিধার ক্ষমতা হবে আট গুণ।
এই টার্মিনালের অবকাঠামোতে এক হাজার ৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন নির্মাণের সুযোগ রাখা হয়েছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বতসোয়ানা, জিম্বাবুয়ে, জাম্বিয়া এবং সম্ভব হলে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের মতো স্থলবেষ্টিত দেশগুলো যুক্ত হবে।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকস আফ্রিকার সিনিয়র অর্থনীতিবিদ গ্যারি ভ্যান রয়েন জানান, এই প্রকল্প একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। শোধিত জ্বালানি রপ্তানির জন্য আফ্রিকার নিজস্ব বিতরণ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে চান ডাংকোটে।
তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগের ফলে কোম্পানিটি তাদের বাজারের বৈচিত্র্য আনতে সক্ষম হবে। এর মাধ্যমে ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ার বাজারের ওপর নির্ভরতা কমবে, যেখানে দীর্ঘ মেয়াদে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি রূপান্তরের কারণে শোধিত জ্বালানির চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
