মিশরের সঙ্গে একটি নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তির আওতায় ১২ কোটি ২৫ লাখ ডলার অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন ও কায়রোর মধ্যে পারস্পরিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে এটি প্রথম কোনো দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত উদ্দেশ্যভিত্তিক চুক্তি।
কায়রোস্থ মার্কিন দূতাবাসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন খাতে উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে মিশরের বাজারে মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সুযোগ প্রসারিত করা এবং বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করাও এর উদ্দেশ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ক্রমান্বয়ে প্রসারিত হচ্ছে। গত বছর পণ্য ও সেবামূলক বাণিজ্যের পরিমাণ আনুমানিক ১৬১০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই উদ্যোগের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স রবার্ট সিলভারম্যান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেল আত্তি এবং উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামার আল আহদাল।
অনুষ্ঠানে রবার্ট সিলভারম্যান বলেন, এই চুক্তি চূড়ান্ত করার সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেল আত্তি ও উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামার আল আহদালের সঙ্গে থাকতে পেরে আমি গর্বিত। তিনি জানান, এই চুক্তি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তৈরি করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর কোম্পানিগুলোর জন্য সুযোগ বাড়াবে।
এর মধ্যে রয়েছে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পানি নিরাপত্তা, উদ্ভাবন এবং জনশক্তি উন্নয়ন। রাষ্ট্রীয় তথ্য সংস্থার প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিটিতে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো খাতও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামার আল আহদাল এই চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আমাদের অংশীদারিত্বের বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করতে এবং যৌথ সমৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী দিনেও আমাদের যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে আমি উন্মুখ হয়ে আছি।
মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাদের জাকি জানান, যৌথ সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সমর্থন করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং জনসেবার মান উন্নত করাই এই চুক্তির প্রধান উদ্দেশ্য।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটিতে মিশরের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আহমেদ কৌচুক, সরবরাহ ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যমন্ত্রী শেরিফ ফারুক এবং উচ্চশিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা মন্ত্রী আবদেল আজিজ কোনসোওয়া অংশ নেন।
এই নতুন চুক্তিটি মূলত বিদ্যমান অর্থনৈতিক সহযোগিতা কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে। ১৯৯৯ সাল থেকে উভয় দেশ একটি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি বজায় রেখে চলেছে।
