দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও কমানোর নতুন ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুস। মঙ্গলবার সকালে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা খাঁটি সোনার দাম কমেছে। এই দাম কমার প্রেক্ষিতেই অলঙ্কারের স্বর্ণের দাম সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস। সংগঠনের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন নির্ধারিত এই মূল্য আজ ৫ মে মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকেই সারা দেশে কার্যকর করা হয়েছে।
বাজুসের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছে। এতে করে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকায়। এর আগে এই মানের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। জুয়েলারি খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন যে বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবং দেশের তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
একই সঙ্গে অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকায় বিক্রি হবে। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকায় নেমে এসেছে। স্বর্ণের দাম কমলেও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আনেনি বাজুস। বর্তমানে বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৪৮২ টাকাতেই স্থির রয়েছে।
স্বর্ণের বাজারের এই অস্থিরতা চলতি বছরে এক অনন্য রেকর্ড তৈরি করেছে। পরিসংখ্যান বলছে ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচ মাসেই স্বর্ণের দাম মোট ৬১ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৩৩ বার এবং কমানো হয়েছে ২৮ বার। গত বছরের তুলনায় এই পরিবর্তনের হার বেশ দ্রুত। ২০২৫ সালে পুরো বছরে স্বর্ণের দাম মোট ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল। দেশের বাজারে সোনার দামের এই ঘন ঘন পরিবর্তন সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল সবশেষ স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। সেই সময় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সেই বর্ধিত দাম আবারও কমিয়ে আনল সংগঠনটি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন আন্তর্জাতিক বাজারে মুদ্রার বিনিময় হার এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে স্বর্ণের দামের এই ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। তবে রুপার বাজারের পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল। চলতি বছর এখন পর্যন্ত রুপার দাম ৩৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে যার মধ্যে ১৯ বার বেড়েছে এবং ১৭ বার কমেছে। স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকরের ফলে বিয়ের মৌসুমের কেনাকাটায় সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।
