শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে বিশেষজ্ঞদের বড় বার্তা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৫, ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম

হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে বিশেষজ্ঞদের বড় বার্তা

Ai - ছবি

বাংলাদেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। শুক্রবার রাজধানীর আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ও শিশু চিকিৎসকরা এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন এবং চেস্ট এন্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। চিকিৎসকরা জানান, সারাদেশে শিশুদের পর্যাপ্ত পরিমাণে হামের টিকা দেওয়া শেষ হয়েছে, যার সুফল অচিরেই পাওয়া যাবে।

হামের কারণে সৃষ্ট জটিল নিউমোনিয়াই বর্তমানে শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৪ মে পর্যন্ত গত দুই মাসে দেশে মোট ৫৪ হাজার ৪১৯ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ জন শিশুর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আরও ৩৬৯ জন শিশু হাম সদৃশ উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। চিকিৎসকরা এই অপূরণীয় ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, গত দুই বছরে টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা ছেদ পড়ায় এ বছর মার্চ মাস থেকে হামের সংক্রমণ আকস্মিকভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভাইরাল এবং ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়ার সংক্রমণ শিশুদের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দেখা দিচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকরা সরকারের কাছে চারটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হামের টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে ‍‍`ফিভার কর্নার‍‍` স্থাপন করা। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের বক্ষব্যাধি ও শিশু বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তবে এই লড়াইয়ে অভিভাবকদের সচেতনতাকে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন তারা।

অসুস্থ শিশুদের বিষয়ে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য মা-বাবাদের অনুরোধ করেছেন চিকিৎসকরা। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ খাওয়ানো বা ঝাড়ফুঁকের মতো কুসংস্কারের কারণে শিশুর অবস্থা জটিল হয়ে পড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, শিশু অসুস্থ হওয়ার সাথে সাথে দক্ষ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে সুস্থতার হার অনেক বেশি থাকে। দেরিতে হাসপাতালে নিয়ে আসা শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই হামের উপসর্গ দেখা দিলে মোটেও সময়ক্ষেপণ করা যাবে না।

হাম একটি অতিমাত্রায় সংক্রমণযোগ্য রোগ হলেও এর সুস্থতার হার অনেক বেশি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আক্রান্তদের মধ্যে শতকরা ৯৯ শতাংশ রোগীই সঠিক চিকিৎসায় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। সম্মেলনে শিশু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর আবিদ হোসেন মোল্লা, প্রফেসর ডা. রুহুল আমিন এবং প্রফেসর ডা. আনারুল আনাম কিবরিয়াসহ বক্ষব্যাধি খাতের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন। তারা শিশুদের জন্মগত অধিকার হিসেবে সুস্থভাবে বেঁচে থাকা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন।

banner
Link copied!