বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

সীমান্ত অঞ্চলে হামলা

আবিয়ে বাজারে ড্রোন হামলা: প্রাণহানি বেড়ে অন্তত ১৫৩

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২১, ২০২৬, ০৫:০০ পিএম

আবিয়ে বাজারে ড্রোন হামলা: প্রাণহানি বেড়ে অন্তত ১৫৩

সুদান ও দক্ষিণ সুদানের বিতর্কিত সীমান্তবর্তী এলাকা আবিয়েতে একটি জনবহুল বাজারে ড্রোন হামলায় অন্তত ১৫৩ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার আবিয়ে শহরের ঠিক উত্তরে অবস্থিত আমিএত বাজারে এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়।

মঙ্গলবার আবিয়ে প্রশাসনের অন্তর্বর্তীকালীন তথ্যমন্ত্রী ইয়োহান্না আকোল তোর এই হামলার জন্য সুদান সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, বাজারে তখনো আগুন জ্বলছিল এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রয়টার্সকে তোর বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ এবং কিছু মরদেহ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাকর্মীরা আহতদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন।

দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয়ও এই হামলার জন্য সুদান সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাজারের একাধিক স্থানে ড্রোন থেকে হামলা চালানো হয়েছে এবং প্রতিবাদের অংশ হিসেবে সুদানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তি বিপন্ন করা থেকে বিরত থাকতে উত্তর তীরের প্রতিবেশীকে আহ্বান জানিয়েছে জুবা। তবে কূটনৈতিক তলব কিংবা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি সুদানি সশস্ত্র বাহিনী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুদানের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা এ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, দক্ষিণ সুদান থেকে আসা এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের বা আরএসএফের উদ্দেশ্যে যাওয়া জ্বালানিবাহী ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, হামলায় নিহত ব্যক্তিরা সবাই আরএসএফের সদস্য ও জ্বালানি পাচারকারী এবং সেনাবাহিনী সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কূটনীতিকরা রয়টার্সকে জানান, হামলাটি বাজারের একটি জ্বালানি ডিপোতে আঘাত হানে, যা নিজেদের যোদ্ধাদের সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যবহার করে আসছিল আরএসএফ। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি বিদ্রোহী এই বাহিনী।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক মঙ্গলবারের এক বিবৃতিতে আমিএত বাজার ও তোদাক এলাকার ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নারী ও শিশুসহ বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অনেকে, যদিও জাতিসংঘ ওই বিবৃতিতে নির্দিষ্ট কাউকে দায়ী করেনি।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, হামলার পর বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং আবিয়েতে নিয়োজিত জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা বাহিনী হতাহতের সংখ্যা যাচাই করছে। চিকিৎসাসংক্রান্ত দাতব্য সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস জানিয়েছে, তারা গুরুতর দগ্ধ ব্যক্তিসহ বিশের বেশি আহত মানুষকে চিকিৎসা দিচ্ছে।

সুদান সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যকার এই সংঘাত শুরু হয় ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে এবং এটি একটি গুরুতর মানবিক সংকট তৈরি করেছে। দক্ষিণ সুদান বারবার বলে আসছে যে তারা কোনো পক্ষ নেয়নি, তবে কূটনীতিকদের মতে আবিয়ে এলাকাটি আরএসএফের জ্বালানি সরবরাহের একটি প্রধান রুট হয়ে উঠেছে।

আবিয়েকে সুদান ও দক্ষিণ সুদান উভয় পক্ষই নিজেদের দাবি করে থাকে এবং অঞ্চলটি যৌথভাবে পরিচালিত হয়। তেলসমৃদ্ধ এই ভূখণ্ডটি সুদানের কর্ডোফান অঞ্চলের সীমান্তবর্তী, যা চলমান গৃহযুদ্ধের অন্যতম প্রধান রণক্ষেত্র।

banner
Link copied!