গত আগস্ট মাস থেকে ইয়েমেনে চলমান সংঘাতে ১ হাজার ৭৭১ জন নিহত এবং প্রায় ৮ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে এই হতাহতের পরিসংখ্যানে কেবল বেসামরিক নাগরিক নাকি সামরিক কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, সে বিষয়ে সংস্থাটি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি।
গত ২৬ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে দেশটিতে মোট ৯৪ জন নিহত এবং ৫৬৪ জন আহত হয়েছেন। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী ওই পাঁচ দিনে প্রতিদিন গড়ে ১৩২ জন হতাহত হয়েছেন, যা আগের হিসাবের দৈনিক গড় ৯৩ জনের তুলনায় বেশ বেশি।
সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় হতাহতের এই সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। আলোচিত পাঁচ দিনে লাহেজ প্রদেশে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ৩১০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন যা মোট সংখ্যার ৪৭ শতাংশ।
এদিকে মারিব প্রদেশে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ১৭২ জন হতাহতের মধ্যে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। কেবল ৩০ অক্টোবরই মারিবের আল-জুবাহ, হারিব এবং আল-জাওফ ফ্রন্টে ঘটিত বিভিন্ন ঘটনায় ২০ জন নিহতসহ মোট ১১৭ জন হতাহত হয়েছেন।
গত জুলাই মাস থেকে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী এবং হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে শুরু হয়, বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ ও লাহেজ প্রদেশে। এই নতুন সংঘর্ষের ফলে ২০২২ সালের এপ্রিল মাস থেকে ইয়েমেনে যে কিছুটা স্থিতিশীলতা বিরাজ করছিল তার অবসান ঘটে।
চলমান এই লড়াই দেশটির মানবিক সংকট ও স্থানীয় জনগণের দুর্গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সংঘাতের কারণে তাইজ শহরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম তিন থেকে পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান বাস্তুচ্যুতি সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর পর্যন্ত ৩ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।
গত অক্টোবর মাসের শুরু থেকে লাহেজের আল-মাদারিবাহ ওয়া আল-আরাহ জেলা থেকে ৪৩ হাজারেরও বেশি মানুষ পালিয়ে গেছেন। অন্যদিকে, বর্তমানে এডেন শহরে ৫৬ হাজারেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা এবং বেশ কয়েকটি প্রদেশ দখল করার পর থেকেই ইয়েমেনে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সালের মার্চ মাসে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব সামরিক জোট দেশটিতে হস্তক্ষেপ করে।
