মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইরানি সর্বোচ্চ নেতা খামেনির জানাজা ও দাফন আশুরার পর

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৯, ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম

ইরানি সর্বোচ্চ নেতা খামেনির জানাজা ও দাফন আশুরার পর

ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানের সময়সূচি চূড়ান্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহররম মাসের প্রথম দশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর এই ঐতিহাসিক এবং মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হবে। ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজে প্রকাশিত দ্বিতীয় বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। শোকাহত মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন সংগঠন চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, খামেনির স্মরণসভা ও দাফন অনুষ্ঠানকে ঘিরে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন জল্পনা বা যাচাইবিহীন প্রতিবেদনের কোনো ভিত্তি নেই। এ ধরনের অসত্য তথ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। ইমাম হুসাইনের শোকানুষ্ঠান পালনের বিষয়ে শহীদ নেতার যে দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার ছিল, তার প্রতি সম্মান রেখেই আশুরার পরবর্তী সময়ে এই কর্মসূচি পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে তার কার্যালয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলায় নিহত হন। তার সঙ্গে পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর তিনি ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত টানা ছত্রিশ বছর ছয় মাস তিনি এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তার প্রয়াণ ও পরবর্তী দাফন প্রক্রিয়াকে ঘিরে পুরো ইসলামি বিশ্বে গভীর শোক বিরাজ করছে।

ইসলামি প্রচার সমন্বয় পরিষদের প্রধান মহসেন মাহমুদ জানিয়েছেন, খামেনির জানাজা এমন একটি বৈশ্বিক আয়োজনে রূপ নেবে যা ইরান এবং সমগ্র ইসলামি বিশ্বের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ইতিমধ্যে ইরাকসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য ব্যাপক নিবন্ধন ও প্রস্তুতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইরান সরকার জানিয়েছে, অনুষ্ঠান সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এবং লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার চূড়ান্ত রূপরেখা খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ইরানের এই শোক আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম হয়েছে। সাধারণ ইরানিসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এই শোকাহত আয়োজনে অংশ নিতে মুখিয়ে আছেন। নিরাপত্তার খাতিরে এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ সব ধরণের আগাম প্রস্তুতি সম্পন্ন করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

banner
Link copied!