ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এক সংসদীয় অধিবেশনে ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে মেহরদাদ আখলাকিকে অনুমোদন দিয়েছেন দেশের আইনপ্রণেতারা।
মোট ২৭৭টি ভোটের মধ্যে মেহরদাদ আখলাকি ২৩৭টি পক্ষে এবং ১৫টি বিপক্ষে ভোট পান। এই ভোটাভুটিতে কোনো ভোটদান বিরত ছিল না। তার প্রস্তাবিত পরিকল্পনা পর্যালোচনার পাশাপাশি সমর্থক ও বিরোধীদের বক্তব্য শোনার পর সংসদ সদস্যরা ভোট দেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রথম দফার হামলায় নিহত আজিজ নাসিরজাদেহর স্থলাভিষিক্ত হলেন নতুন এই মন্ত্রী। তার মৃত্যুর পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন মজিদ ইবনে আল-রেজা।
ভোটাভুটির আগে সংসদে দেওয়া বক্তব্যে আখলাকি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি আবার কোনো হামলা চালায় তবে ইরান একটি বিস্ময়কর ও বিস্তৃত জবাব দেবে।
তিনি সমাবেশে বলেন, আমেরিকান ও জায়নবাদী শত্রু যদি আবারও ভুল হিসাব করে, তবে ইরানি জাতি ও ইসলামি যোদ্ধাদের প্রতিক্রিয়া হবে বিস্ময়কর এবং সুদূরপ্রসারী।
তিনি আরও বলেন, এর ফলে সৃষ্ট যেকোনো আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিণতির সম্পূর্ণ দায় ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদেরই বহন করতে হবে।
আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে আখলাকি জানান যে তিনি গত ৩৫ বছর ধরে শত্রুদের তথাকথিত হত্যা তালিকার মধ্যে ছিলেন। তেহরান যাকে প্রতিরোধ ফ্রন্ট হিসেবে অভিহিত করে, সেই নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নিজের লক্ষ্যগুলো তুলে ধরে নতুন এই মন্ত্রী দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্প নেটওয়ার্কে প্রতিরক্ষা উৎপাদন সম্প্রসারণের কথা জানান। বর্তমান নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় গবেষণার পরিধি বাড়ানো এবং মন্ত্রণালয়কে পুনর্গঠন করার প্রতিশ্রুতিও তিনি দেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা রয়েছে আখলাকির। তিনি এর আগে ইরানের অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত থাকায় তিনি আগেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন।
