বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

লেবানন নিরাপত্তা

হিজবুল্লাহর বিস্ফোরক চালান জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি: দাবি আদেল নাসারের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২২, ২০২৬, ০৩:০০ পিএম

হিজবুল্লাহর বিস্ফোরক চালান জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি: দাবি আদেল নাসারের

লেবাননের বিচারমন্ত্রী আদেল নাসার গত মঙ্গলবার হিজবুল্লাহর একটি বিস্ফোরক চালানের তদন্ত শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জানান, এই তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হচ্ছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে মামলাটি বিচারিক কাউন্সিলে পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

,তদন্তের ক্ষেত্রে কোনো রকম বাধা বা সীমা নেই বলে গত মঙ্গলবার আশার আল-আওসাত পত্রিকাকে জানান নাসার। তিনি জোরালোভাবে বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীন কাজে কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ সহ্য করা হবে না। বিস্ফোরকগুলোর বিপজ্জনক প্রকৃতি এবং ঘটনার গভীরতা বিচার করেই এটিকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট মামলার দায়িত্বে থাকা বিচারিক কাউন্সিলে পাঠানো যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

,আপিল আদালতের প্রসিকিউটর জেনারেল বিচারক আহমেদ রামি আল-হাজ এবং সামরিক আদালতের সরকারি কমিশনার বিচারক ক্লোদ ঘানেমের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন নাসার। তদন্ত কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং এর পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, কোনো প্রকার রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা সীমাবদ্ধতা ছাড়াই তদন্ত পরিচালনা নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন, প্রধানমন্ত্রী নাওয়াক সালাম ও বিচার মন্ত্রণালয় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

,বিষয়টি তাদের কাছে অত্যন্ত মৌলিক ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করে নাসার জানান, তারা এই ঘটনাকে জাতীয় নিরাপত্তার সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করছেন। প্রস্তাবিত এই হস্তান্তরের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই বরং সম্পূর্ণ আইনি ভিত্তি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। গ্র্যান্ড সেরাইয়ে অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকেও তিনি বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং লেবানন ফোর্সেস সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সমর্থন লাভ করেন।

,এরপর তিনি মন্ত্রিসভার সাধারণ সম্পাদনা দপ্তরে একটি আবেদন জমা দেন, যাতে প্রেসিডেন্ট আউনের সভাপতিত্বে আগামী বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় প্রাসাদে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকের এজেন্ডায় এই হস্তান্তরের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই পদক্ষেপের ফলে বিচারিক তদন্ত এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে একটি পৃথক বিচারিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া একসঙ্গে চলতে পারে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে সামরিক বিচার বিভাগের এখতিয়ার শেষ হবে এবং মামলাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিচারিক কাউন্সিলে চলে যাবে। নাসার স্পষ্ট করেন যে, সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রিসভার আলোচনা পরিচালিত হবে এবং এই হস্তান্তর মূল তদন্ত কার্যক্রমে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না।

,বিস্ফোরকগুলোর পরিবহন এবং বৃহৎ পরিসরে সংরক্ষণের ঝুঁকি অত্যন্ত মারাত্মক উল্লেখ করে নাসার সতর্ক করেন যে, এগুলোর প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কেও স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই। এ ধরনের বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক স্থানান্তর করার সময় যাতায়াত পথ ও গন্তব্যস্থল হুমকির মুখে পড়ে এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এগুলো সংরক্ষণ করা হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন চরম বিপন্ন হয় বলে জানান তিনি। এই বিস্ফোরকগুলোর সঙ্গে কোনো বড় ধরনের গোপন তৎপরতার যোগসূত্র থাকতে পারে কি না এবং এগুলো দেশের অভ্যন্তরে কোনো গুপ্তহত্যা বা বোমা হামলায় ব্যবহারের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

,তদন্তকারীরা এখনো বিস্ফোরকগুলোর প্রকৃত উদ্দেশ্য নিশ্চিত করতে পারেননি বলে জানান তিনি। তবে এর পেছনে তৃতীয় আরেকটি সম্ভাবনা থাকতে পারে এবং তা হলো কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনা করা, যা হিজবুল্লাহর দাবি অনুযায়ী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য নির্ধারিত ছিল। নাসার স্মরণ করিয়ে দেন যে, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে যেকোনো ধরনের সামরিক ও সশস্ত্র কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

,হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা প্রস্তাবিত এই হস্তান্তরের কড়া সমালোচনা করলেও নাসার রাজনৈতিক সংঘাত এড়িয়ে চলার অবস্থান নেন। মামলা স্থানান্তর করা হলে তদন্ত দুর্বল হয়ে পড়বে এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বিচারকদের যেকোনো রাজনৈতিক চাপ বা হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

banner
Link copied!