শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

লেবানন নিরাপত্তা

বিস্ফোরকভর্তি হিজবুল্লাহর ট্রাক আটকের ঘটনায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট: বিচারকের পদক্ষেপ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

বিস্ফোরকভর্তি হিজবুল্লাহর ট্রাক আটকের ঘটনায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট: বিচারকের পদক্ষেপ

লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পৃক্ত বিস্ফোরকভর্তি একটি ট্রাক আটকের ঘটনায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। গত শুক্রবার দেশটির সামরিক আদালতের এক বিচারক এই চার্জশিট দাখিল করেন বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে একটি চেকপোস্টে তল্লাশির সময় বিস্ফোরকসহ গাড়িটি আটক করে কর্তৃপক্ষ। ওই সময় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তারা বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। বাকি অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মামলার নথিতে পাঁচজন আসামির আসল পরিচয় জানা না থাকায় তাদের কেবল ছদ্মনামে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

পুরো মামলাটি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সামরিক আদালতের তদন্তকারী বিচারক ক্লোদ ঘানেমের কাছে পাঠানো হয়েছে।

জাতীয় বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটন, অস্ত্র ও বিস্ফোরক রাখা এবং রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে অবৈধ সংগঠন গড়ে তোলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বৈরুতকে পূর্ব বেকা উপত্যকার সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান মহাসড়কের একটি চেকপোস্টে গাড়িটি থামানো হয়েছিল বলে জানান বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা। ওই ট্রাকে সাতশ আশি কেজি বিস্ফোরক ছিল, যার মধ্যে আড়াইশ কেজি টিএনটি এবং আড়াইশ কেজি সি-ফোর প্লাস্টিক বিস্ফোরক অন্তর্ভুক্ত।

এই চালান আটকের ঘটনা লেবাননজুড়ে তীব্র জনবিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, হিজবুল্লাহ যখন অস্ত্র সমর্পণের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে, তখন তারা হয়তো দেশের ভেতরে কোনো গুপ্তহত্যার পরিকল্পনা করছিল।

এদিকে বিস্ফোরকগুলোর মালিকানা স্বীকার করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটির দাবি, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযানের জন্যই এসব বিস্ফোরক নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। একই সঙ্গে আটক দুজনকে মুক্তি দেওয়া এবং বিস্ফোরকগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য লেবাননের কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।

বহু বছর ধরে লেবাননের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে হিজবুল্লাহ স্বাধীনভাবে তাদের সামরিক কার্যক্রম ও অস্ত্র পরিবহন পরিচালনা করে আসছে। গত মার্চ মাসে লেবানন সরকার ইরানের মদদপুষ্ট এই সংগঠনের সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম বেআইনি ঘোষণা করার পর সেই নীতিতে পরিবর্তন আসে।

ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর ধারাবাহিক রকেট হামলার পর সরকার ওই নির্দেশিকা জারি করে। এর ফলে সৃষ্ট সংঘাতে লেবাননে প্রায় চার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং দক্ষিণ লেবাননের একটি বড় অংশ ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে চলে গেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র হিজবুল্লাহর প্রধান সমর্থক ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার দুই দিন পর এই রকেট হামলা চালিয়েছিল গোষ্ঠীটি।

তবে তাদের সামরিক শাখাকে অবৈধ ঘোষণা করার সরকারি নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে আসছে হিজবুল্লাহ।

banner
Link copied!