বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের জন্য তেহরানকে চাপ দিচ্ছে কাতার। ওই স্থাপনাগুলোতে উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান সংঘাতে মধ্যস্থতা করছে দোহা।
কাতারি এই প্রস্তাব অনুযায়ী, তেহরানকে দেশ থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরিয়ে নিতে হবে না। তবে ইউরেনিয়ামের মাত্রা কমাতে তা লঘু করার মতো বিকল্প কিছু ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। গত শুক্রবার আমিরের দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে এই ফোনালাপের কথা নিশ্চিত করা হলেও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, সংকট নিরসন এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা রোধে সংলাপ ও কূটনীতি চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন আমির। তবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে নতুন করে হামলা চালানো হবে কি না, তা এখনো বিবেচনা করছেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভোট কমে যাওয়ার পেছনে এই সংঘাতের সংযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স। এর পর থেকেই ইরানের ভেতরে মার্কিন হুমকির কার্যকারিতা কিছুটা কমে গেছে। কাতারি উদ্যোগ অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে অবিলম্বে নৌ অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের অবরুদ্ধ আট বিলিয়ন ডলারের একটি অংশ ছেড়ে দেবে।
এর বিনিময়ে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের অনুমতি দেবে ইরান। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কায়রোতে হওয়া একটি পরিত্যক্ত চুক্তির ভিত্তিতে এই অনুমতি দেওয়া হবে। চুক্তির দ্বিতীয় দিনেই ওমানের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারিত জলপথ দিয়ে হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে ইরান।
এই সামুদ্রিক রুটটি তেহরান ও মাসকাট যৌথভাবে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থায় জমা দেবে। এর আগে এই জলপথ চালুর জন্য বেশ কিছু পূর্বশর্ত দিয়েছিল ইরান। এর মধ্যে ছিল লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানি উপকূল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
ইরানের জন্য ত্রিশ হাজার কোটি ডলারের একটি পুনর্গঠন ও উন্নয়ন তহবিল গঠনের রূপরেখাও রয়েছে সমঝোতা স্মারকে। যদিও এই তহবিলের অর্থের উৎস এখনো স্পষ্ট নয়। জাতিসংঘের পরিদর্শকদের পুনরায় প্রবেশের বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করেছেন ইরানি কর্মকর্তারা। সংস্থাটির প্রধান রাফায়েল গ্রোসির ওপর থেকে বিশ্বাস উঠে গেছে বলে দাবি তাদের।
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা চালানোর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সমালোচনা না করার অভিযোগ তোলা হয়েছে গ্রোসির বিরুদ্ধে। পরিদর্শকেরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের তথ্য পাচার করতে পারেন বলে আশঙ্কা ইরানি কর্তৃপক্ষের। প্রণালীর ভবিষ্যৎ প্রশাসন নিয়ে ইরানের সঙ্গে কথা বলেছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি।
গত মঙ্গলবার ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতি কমিটির সহ-সভাপতি আমির হায়াত মোকাদ্দাম জানিয়েছেন, এই জলপথ দিয়ে চীন, ভারত, কাতার ও ইরাকের জাহাজ চলাচলের অনুমতি রয়েছে। কাতারি জাহাজগুলোকে বিনা মূল্যে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হলেও ভারতীয় ও চীনা জাহাজের কাছ থেকে ট্রানজিট ফি নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন যে এক কোটি তেইশ লাখ ব্যারেল উপসাগরীয় কাঁচা তেল পার হয়েছে, তার প্রায় বিয়াল্লিশ শতাংশ গেছে চীনে এবং তেরো শতাংশ গেছে ভারতে। প্রণালীর পূর্ব অংশে দুটি তেল ট্যাংকার অননুমোদিতভাবে অতিক্রম করার চেষ্টা করলে মাইন বিস্ফোরণে সেগুলোতে আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের নৌবাহিনী।
