লেবাননের বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত পাঁচটি দেশের দূতাবাসের যৌথ কূটনৈতিক বিবৃতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও জাপানের স্বাক্ষরিত এই ঘোষণায় দাবি করা হয়, লেবানন রাষ্ট্রকে অস্ত্র এবং যুদ্ধ ও শান্তি সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্তের ওপর একক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হবে।
,বিবৃতিতে সব আইনপ্রণেতা ও রাজনৈতিক দলকে এই নীতিগুলো সমুন্নত রাখার পক্ষে প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি, দাহর আল বাইদার বিস্ফোরক মামলার দ্রুত ও স্বাধীন বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়, যাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না থাকে।
,আশ শর্ক আল আওসাত পত্রিকাকে এক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব জোরদার করা এবং অস্ত্রের ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সরকারের প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করতেই এই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে লেবাননের একজন সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই বিবৃতি সম্পর্কে দেশটির কর্তৃপক্ষকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি।
,সূত্রটি আরও জানায়, এই বিবৃতিটি রাষ্ট্রপতি জোসেফ আউন এবং প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালামের সাম্প্রতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে লেবাননকে কোনো আঞ্চলিক সংঘাতে জড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছিল। হিজবুল্লাহ যাতে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো ভবিষ্যতে যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ে, সেই আশঙ্কার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
,পাঁচ দেশের এই ঘোষণা হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। দলটির আইনপ্রণেতা আলী আম্মার এটিকে চরম ঔদ্ধত্য ও ধৃষ্টতা বলে অভিহিত করেছেন এবং লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন।
,আলী আম্মার বলেন, এই বিবৃতি লেবাননের সার্বভৌমত্ব, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, কূটনৈতিক শিষ্টাচার এবং জনগণের মর্যাদাকে পদদলিত করেছে। তিনি লেবাননের কর্তৃপক্ষেরও সমালোচনা করেন, কারণ তারা বারবার এ ধরনের বৈদেশিক হস্তক্ষেপের বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করে এটিকে স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করছে।
,তিনি বলেন, এই দেশগুলোর উচিত ছিল লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অব্যাহত দখলদারিত্ব, প্রতিদিনের হামলা, হত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ ও বাস্তুচ্যুতির নিন্দা জানানো। বিভেদ উসকে দেওয়া এবং লেবাননের শত্রুদের রক্ষা করার পরিবর্তে তাদের সংলাপ ও জাতীয় ঐকমত্যের আহ্বান জানানো উচিত ছিল।
,আরেক আইনপ্রণেতা মিশেল দুয়াইহি এই বিবৃতিকে লেবাননের কর্তৃপক্ষের জন্য একটি সরাসরি বার্তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যাতে অস্ত্রের বিষয়টি নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং পূর্বে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়া হয়। দুয়াইহি বলেন, লেবানন এখনো সব সুযোগ হারায়নি এবং সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব।
,দাহর আল বাইদার বিস্ফোরক মামলা প্রসঙ্গে দুয়াইহি জানান, এই বিষয়টি এখন আর ধামাচাপা দিয়ে রাখা যাবে না, বিশেষ করে যখন হিজবুল্লাহর এক আইনপ্রণেতা দাবি করেছেন যে বিস্ফোরকগুলো তাদের দলের এবং সেগুলোর ফেরত চেয়েছেন। তিনি অবিলম্বে বিচারিক পদক্ষেপ, গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন।
,পাঁচ দেশের এই বিবৃতিতে ফ্রান্স ও জার্মানির অনুপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। স্ট্র্যাটেজিক অ্যাফেয়ার্সের লেভান্ট ইনস্টিটিউটের পরিচালক সামি নাদের বলেন, স্বাক্ষরকারী পাঁচটি দেশই হিজবুল্লাহর অস্ত্রের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের দাবিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে এক সুরে কথা বলছে।
,নাদের বলেন, ওয়াশিংটন বিশ্বাস করে লেবানন কর্তৃপক্ষের এখন অস্ত্র ইস্যুতে অন্তত কিছু পদক্ষেপ নেওয়া উচিত এবং সরকারের অজুহাত তারা আর মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। এমনকি কূটনৈতিক চাপের মুখে ফ্রান্সও তাদের পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে কিছুটা পিছিয়ে আসছে বলে জানান তিনি।
