ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত সামরিক অভিযানের মুখে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা মঙ্গলবার আল-জালদা চত্বরের কাছে জড়ো হয়ে নিজ ভূমিতে ফেরার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। নারী, শিশু ও বয়স্কসহ নানা বয়সী মানুষ এই সমাবেশে অংশ নেন।
ইসরায়েলি বাহিনী ওই এলাকাটি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে রাখায় বিক্ষোভকারীরা তার কাছাকাছি স্থানে সমবেত হতে বাধ্য হন। আল-জালদা এবং আইন দেইর বাহা এলাকার বাসিন্দারা অবিলম্বে সামরিক অবরোধ প্রত্যাহার এবং নিজ নিজ সম্পত্তি ও বাসগৃহে প্রবেশের দাবি জানান।
অভিযান ও তল্লাশির নামে ইসরায়েলি সেনারা এই দুটি এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ করে রেখেছে। মূলত গত শুক্রবার দুই ফিলিস্তিনির হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং তিনজন আহত হওয়ার পর এই সামরিক অভিযান শুরু হয়।
ওই ঘটনার পর ইসরায়েলি বাহিনী দুই হামলাকারীকে হত্যা করে এবং হেব্রন শহর ও আশপাশের গ্রামগুলোতে কঠোর বিধিনিষেধ ও অবরুদ্ধ অবস্থা জারি করে। সেনারা আল-জালদা ও আইন দেইর বাহা এলাকার ফিলিস্তিনিদের বাড়িগুলো দখল করে অস্থায়ী সামরিক ঘাঁটিতে রূপান্তর করে।
দখলকৃত এসব বাড়ির ওপর ইসরায়েলি পতাকা উড়িয়ে দেওয়া হয়। এই সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে আবাসিক এলাকায় সাঁজোয়া যানের মহড়া, শহরের প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে দেওয়া এবং বাসিন্দাদের জোরপূর্বক ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযানের প্রথম কয়েক দিনেই নিরাপত্তা বাহিনী বহু ঘরবাড়ি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় অবকাঠামো ভাঙচুর বা ক্ষতিগ্রস্ত করে। হেব্রন পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই অভিযানের কারণে ৭৬০ পরিবারের মোট ৪ হাজার ৯৬৯ জন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি প্রিজনার সোসাইটি জানিয়েছে, গত শুক্রবার থেকে বুধবারের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী পুরো গভর্নরজুড়ে অভিযান চালিয়ে ১১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সামরিক অবরোধের কারণে এই অঞ্চলে ৬৬টি বিদ্যালয়ে সরাসরি পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এর ফলে ২ হাজার ৮৭২ জন শিক্ষার্থীর পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এদের মধ্যে ২ হাজার ১৯৮ জন শিশু সরাসরি অবরুদ্ধ এলাকার মধ্যে বসবাস করছে এবং বাকি ৬৭৪ জন বাস্তুচ্যুত পরিবারের সদস্য হওয়ায় শ্রেণিকক্ষে পৌঁছাতে পারছে না।
বাস্তুচ্যুত এসব পরিবার অবিলম্বে সামরিক অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে, যাতে তারা নিরাপদে নিজেদের বাসগৃহে ফিরে যেতে পারে।
