অধিকৃত পশ্চিম তীরে আড়াই মিলিয়ন বর্গমিটারের বেশি ভূমিকে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক রাজধানী রামাল্লার ঠিক পাশেই অবস্থিত এই নতুন ভূখণ্ড।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ভূমিটি ইসরায়েলের সম্পত্তি তত্ত্বাবধায়কের প্রশাসনের অধীনে চলে গেল। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট রেজিস্ট্যান্স কমিশন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষগুলোর এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য ৪৫ দিন সময় রয়েছে।
ওফের সামরিক ক্যাম্পের অবজেকশনস কমিটিতে এই আপিল জমা দিতে হবে। রামাল্লার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত তিনটি ফিলিস্তিন গ্রামের অংশবিশেষ রয়েছে এই নির্ধারিত ভূমির মধ্যে।
বেইতিল্লু, আল-মাজরাহ আল-কিবলিয়া এবং দেইর আম্মার হলো ক্ষতিগ্রস্ত এসব জনপদ। কমিশনের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে এই ঘোষণার ফলে নিকটবর্তী তালমোনিম বসতি ব্লকের সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।
এই ব্লকের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কেরেম রেইম, নেরিয়া এবং নাহলিয়েল বসতি। একই সঙ্গে এই পদক্ষেপের কারণে তালমোন ও দোলভ আউটপোস্টের দিকেও বসতিগুলোর বিস্তৃতি ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ফিলিস্তিনি গ্রামবাসীর অধিকার রক্ষায় অবিলম্বে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কমিশন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মালিকানার প্রমাণপত্র ও কৃষি কাজের রেকর্ড সংগ্রহ করতে এবং স্থানীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে জমির সীমানা যাচাই করতে বলা হয়েছে।
জাতিসংঘের বহু সদস্য রাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমজুড়ে ইসরায়েলি বসতি নির্মাণ ও সম্প্রসারণের নিন্দা জানিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এসব বসতি অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৯৬৭ সালের জুনের যুদ্ধে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরায়েল। সেই সময় থেকেই এই অঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা ও বেসামরিক বিষয়াদি তদারকির জন্য একটি সামরিক শাসনব্যবস্থা বজায় রেখেছে দেশটি।
