কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ-কানেল এবং দেশটির শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আল জাজিরা এবং রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ওয়েবসাইটে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। প্রেসিডেন্ট ডিয়াজ-কানেলের পাশাপাশি তার স্ত্রী, সৎ ছেলে এবং কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর পরিবারের সদস্যদেরও এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিউবার কমিউনিস্ট নেতৃত্বকে চাপে ফেলার লক্ষ্যেই এই নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে দ্বীপরাষ্ট্রটি ভয়াবহ জ্বালানি ও খাদ্য সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনী কর্তৃক কার্যকর করা এক জ্বালানি অবরোধের কারণে কিউবায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন ২২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এছাড়া ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যার ফলে কিউবা বর্তমানে মেক্সিকো ও চীনের পাঠানো মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, কিউবার এই কমিউনিস্ট শাসন মার্কিন নিরাপত্তার জন্য হুমকি। ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর থেকেই ট্রাম্প কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন। ইরানের সঙ্গে বিরোধের অবসানের পরপরই কিউবার দিকে নজর দেওয়া হবে বলে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বর্তমান পরিস্থিতির জন্য কিউবার অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে বলেছেন, দেশটি একরকম ধসে পড়েছে এবং ওয়াশিংটন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে মার্কিন এই পদক্ষেপে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কিউবা। প্রেসিডেন্ট ডিয়াজ-কানেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের সমালোচনা করে লিখেছেন, মার্কিন সরকারের এই রাজনৈতিক অন্ধত্ব এবং বলপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া ব্যবস্থা কিউবার জনগণের ক্ষতি করার জন্য পরিকল্পিত। তিনি আরও বলেছেন, ইয়ানকি সরকারের আগ্রাসী মনোভাব কিউবার জনগণের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির কাছে পরাজিত হবে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ এই নিষেধাজ্ঞাকে ঘৃণ্য ও মার্কিন হস্তক্ষেপের নতুন উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কিউবার সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো আঘাত জনগণের ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করবে।
১৯৬২ সাল থেকেই কিউবা মার্কিন বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার অধীনে রয়েছে, কিন্তু বর্তমান প্রশাসনের সময়ে তা আরও তীব্রতর হয়েছে। কিউবার সেনাবাহিনী, রেভল্যুশনারি আর্মড ফোর্সেস এবং প্রতিরক্ষা কমিটিসহ (সিডিআর) বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে লক্ষ্য করে এই নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যকার এই উত্তজনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। কিউবার সংকট সমাধানের চেয়েও রাজনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যেই মূলত এই অবরোধ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিউবার সাধারণ মানুষের জন্য এই পরিস্থিতি কত দীর্ঘস্থায়ী হবে তা নিয়ে এখন বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
