রোমানিয়ার কনস্টান্টা বন্দরে একটি সামুদ্রিক ড্রোন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০:৩০ মিনিটে এই বিস্ফোরণ ঘটে বলে রোমানিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। আল জাজিরা এবং রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রোনটি একটি তেল টার্মিনালের কাছে গিয়ে নিজে থেকেই বিস্ফোরিত হয়। যদিও এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে ন্যাটোর সদস্যভুক্ত দেশগুলোর পূর্ব সীমান্তে এ ধরনের ঘটনা নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
বিস্ফোরণের পর রোমানিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রায়েদ আরাফাত জানিয়েছেন, নিরাপত্তার খাতিরে বন্দর এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কৃষ্ণসাগর উপকূলবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ওই এলাকায় অন্য কোনো ড্রোন বা ভাসমান বস্তু আছে কি না, তা তল্লাশি করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে রোমানিয়ার উপকূলে এটি দ্বিতীয় নিরাপত্তা ঘটনা। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে রোমানিয়ার নৌবাহিনী কৃষ্ণসাগরের তীরে একটি রাশিয়ান ইয়াই-আরএম টাইপ মাইন নিষ্ক্রিয় করেছিল।
ইউক্রেন পরবর্তীকালে নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনাটি তাদের একটি সামুদ্রিক ড্রোনের কারণে ঘটেছে। কিয়েভের নৌবাহিনী জানিয়েছে, কৃষ্ণসাগরের নির্দিষ্ট এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনার সময় ড্রোনটি রাশিয়ার ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেমের কবলে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল। ফলে ড্রোনটি দিকভ্রান্ত হয়ে রোমানিয়ার উপকূলে গিয়ে আছড়ে পড়ে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ বুখারেস্টকে ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এই ঘটনাকে ইউক্রেন যুদ্ধের একটি সরাসরি পরিণতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে এবং এর আঁচ এখন প্রতিবেশী দেশগুলোতেও পড়ছে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। গত সপ্তাহে একটি রাশিয়ান ড্রোন রোমানিয়ার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে সীমান্তবর্তী দেশগুলোতে উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে কৃষ্ণসাগর এলাকাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে রোমানিয়ার ওপর এ ধরনের যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা জোটটির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। যুদ্ধের spillover বা প্রভাব কীভাবে বেসামরিক ও সামরিক নিরাপত্তাকে ব্যাহত করছে, এই বিস্ফোরণটি তারই একটি বাস্তব চিত্র। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রোমানিয়া সরকার ও ন্যাটো জোট যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানা গেছে। তবে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন এই সংকট কতদিন স্থায়ী হয়, তা নিয়েই এখন আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা চলছে।
