ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে আয়োজিত `জায়ান্ট ব্যাঙ্কেট` বা বিশাল ভোজসভাগুলো নিয়ে দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, `লে ক্যানন ফ্রঁসে` নামক একটি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে এসব অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নিচ্ছেন। তবে দেশটির র্যাডিক্যাল বামপন্থী দল `লা ফ্রান্স ইনসুমিস` বা এলএফআই এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে কঠোর সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, এই ভোজসভাগুলো ফ্রান্সের মুসলিম সম্প্রদায় ও নিরামিষাশীদের বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে আয়োজন করা হচ্ছে।
আলসাসের কোলমার শহরে গত সপ্তাহে এমনই একটি বিশাল ভোজসভার আয়োজন করা হয়। সেখানে সাড়ে তিন হাজার মানুষ একত্রিত হয়ে স্থানীয় খাবার ও পানীয় উপভোগ করেন। এলএফআই-এর সদস্যদের দাবি, এসব অনুষ্ঠানে বর্ণবাদী স্লোগান দেওয়া হয়েছে এবং অভিবাসী কর্মীদের সাথে দুর্ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া মেনুতে শূকরের মাংসের আধিক্য থাকায় দলটির অভিযোগ, এই আয়োজনগুলো একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে বাদ দেওয়ার মানসিকতা থেকে করা হচ্ছে।
এই বিতর্কের পেছনে উগ্র-ডানপন্থী মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে এলএফআই। তাদের মতে, এই প্রতিষ্ঠানের পেছনে অর্থায়ন করছেন পিয়ের-এডুয়ার্ড স্টেরিন নামের একজন অতি-রক্ষণশীল ধনকুবের। তিনি বিভিন্ন ডানপন্থী থিঙ্ক ট্যাংকে অর্থায়ন করেন, যারা অভিবাসন বিরোধী অবস্থান, গর্ভপাত বন্ধ এবং ফ্রান্সের খ্রিস্টান ঐতিহ্যের প্রসারে কাজ করে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য এবং এলএফআই-এর নেত্রী এমা ফুরো দাবি করেছেন, স্টেরিন এই বিনিয়োগের মাধ্যমে ডানপন্থী রাজনৈতিক এজেন্ডা প্রচার করতে চাইছেন।
অন্যদিকে, আয়োজক প্রতিষ্ঠান `লে ক্যানন ফ্রঁসে` এই অভিযোগগুলো সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। কোলমারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, তারা মূলত পরিবেশ, বন্ধুত্ব, গান এবং খাবার উপভোগ করতে আসেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের অনুষ্ঠানে পারস্পরিক সম্মান ও শালীনতা বজায় রাখার নিয়ম রয়েছে। তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ বেশি এমন এই ভোজসভাগুলো নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে অনেক অংশগ্রহণকারী বাড়াবাড়ি বলে মনে করছেন। রয়টার্স ও বিবিসি নিউজের তথ্যানুসারে, ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সুরক্ষাকে কেন্দ্র করে চলমান এই মেরুকরণ ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে।
