রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। বৃহস্পতিবার জেলেনস্কির পাঠানো একটি খোলা চিঠির প্রেক্ষিতে পুতিন জানিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে সরাসরি মুখোমুখি বৈঠকের কোনো প্রয়োজন তিনি দেখছেন না। বিবিসি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার বার্ষিক অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দিয়ে শুক্রবার পুতিন এই মন্তব্য করেন।
জেলেনস্কির পাঠানো চিঠিতে যুদ্ধবিরতির আহ্বান এবং যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে পুতিন এটিকে অমার্জিত বলে উল্লেখ করেন। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, জেলেনস্কি যেভাবে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন তা বৈঠকের অনুকূল পরিবেশ তৈরির পরিবর্তে বরং বৈঠক না হওয়ার পথই প্রশস্ত করেছে। তার মতে, আলোচনার নামে যুদ্ধবিরতি হলে ইউক্রেন নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে, যা মস্কোর বর্তমান কৌশলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
পুতিন স্পষ্ট করে বলেছেন, রাশিয়ার নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ইউক্রেন রাশিয়ার কাছ থেকে যেসব ছাড়ের দাবি করছে তা পূরণ হয়নি। দীর্ঘমেয়াদী কার্যকর চুক্তির ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, তিন বা ছয় মাসের জন্য কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে তিনি আগ্রহী নন। পুতিন আরও বলেন, বিশেষজ্ঞদের আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধান বের করার দায়িত্ব দেওয়া উচিত এবং সেই প্রক্রিয়া সফল হলে ভবিষ্যতে বৈঠকের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এদিকে পুতিনের এই প্রতিক্রিয়ার পর ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন। টেলিগ্রামে তিনি লিখেছেন, রাশিয়া আলোচনার পরিবর্তে যুদ্ধকেই বেছে নিয়েছে এবং পুতিন এই সংঘাত বন্ধ করতে আগ্রহী নন। কিয়েভের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কোনো ভূখণ্ডগত ছাড় দিতে রাজি নয়, কারণ এর আগেও মস্কোর সঙ্গে চুক্তির পর আগ্রাসন চালিয়েছিল রাশিয়া। ইউক্রেনের দাবি, দোনেৎস্ক, লুহানস্কসহ বিতর্কিত অঞ্চল থেকে রুশ বাহিনী সরে না যাওয়া পর্যন্ত শান্তি আলোচনা কঠিন।
বর্তমানে সংঘাতের পরিস্থিতি এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে দুই পক্ষই নিজেদের দাবিতে অনড়। একদিকে রাশিয়া চাইছে তাদের ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, অন্যদিকে ইউক্রেন অখণ্ডতা রক্ষায় বদ্ধপরিকর। বিশ্বনেতাদের জন্য এখন এই পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেয়ে অনড় অবস্থানই বর্তমান পরিস্থিতির মূল চিত্র হয়ে উঠেছে।
