মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সোমবার ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে রয়টার্স ও বিবিসি নিউজ নিশ্চিত করেছে। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা অপসারণ এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতা আরও কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে পেন্টাগন ও সেন্টকম জানিয়েছে। চলমান সংঘাতের মধ্যে মার্কিন শীর্ষ নেতৃত্বের কঠোর সতর্কবার্তার পর এই নতুন দফার সামরিক অভিযান পরিচালিত হলো। বিগত দশ দিন ধরে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধারাবাহিক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, দেশটির তাব্রিজ শহরসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভিন্ন এলাকার সামরিক কমান্ড কেন্দ্র, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ঘাঁটিতে এই বিমান হামলা জোরালোভাবে আঘাত হেনেছে। হামলার ফলে অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং জনমনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালীর জলসীমায় দুটি তেল ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এর তাৎক্ষণিক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট দেশের বর্তমান অবস্থাকে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন যে তেহরান যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে। এর আগে মার্কিন সেনাসদস্যদের প্রাণহানির বদলা নিতে তেহরানের ওপর অত্যন্ত কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাষ্ট্রে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই ধারাবাহিক আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে ওয়াশিংটন।
বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানের মতো মার্কিন মিত্র দেশগুলোর আকাশসীমায় ইরানের পক্ষ থেকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে। জর্ডান ও কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে যে তারা বেশ কয়েকটি শত্রু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে আকাশেই প্রতিহত করেছে। তবে আঞ্চলিক সংঘাতের এই চরম তীব্রতার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। কূটনৈতিক স্তরে বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে বার্তা বিনিময় অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেলেও মাঠের লড়াই থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক শিপিং ডেটার তথ্য অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের যাতায়াত গত কয়েক দিনে উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। নিরাপত্তার চরম ঝুঁকির কারণে বহু বাণিজ্যিক জাহাজ এই জলপথ এড়িয়ে চলছে অথবা তাদের যাত্রা স্থগিত রাখতে বাধ্য হচ্ছে। এই সংকীর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদী দ্বন্দ্ব বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সংকটের জন্ম দিচ্ছে। আগামী দিনে এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেবে এবং এর পরিণতি কী হবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
