বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ছয় সদস্যের পরিবার নিহত

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ২১, ২০২৬, ১০:০১ পিএম

গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ছয় সদস্যের পরিবার নিহত

মঙ্গলবারে অবরুদ্ধ গাজা সিটির সাবরা এলাকায় একটি আবাসিক বাড়িতে চালানো ভয়াবহ ইসরায়েলি বিমান হামলায় একই পরিবারের ছয় সদস্য নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাবা, মা এবং তাদের চার সন্তান রয়েছে বলে স্থানীয় চিকিৎসা কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে। প্রায় নয় মাস আগে মার্কিন মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি বহাল থাকা সত্ত্বেও উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার ও রক্তক্ষয়ী আক্রমণ বন্ধ হয়নি, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম বিপন্ন করে তুলেছে।

স্থানীয় চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে যে বিমান হামলার শিকার ভবনটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং হতাহতদের উদ্ধার করতে উদ্ধারকর্মীদের মারাত্মক বেগ পেতে হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বাবা ফিরাস আল মাসরি, মা সালসাবিিল এবং তাদের তিন কন্যাসন্তান ও এক পুত্রসন্তান গভীর রাতে ঘুমে থাকা অবস্থায় এই আকস্মিক আক্রমণ ঘটে। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে সাদা কাফনে মোড়ানো মরদেহগুলো উদ্ধার করেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর স্বজনদের কান্নায় সেখানকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে এবং বেঁচে থাকা পরিবারের প্রবীণ সদস্যরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

নিহতদের স্বজনরা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই হঠাৎ করে এই বিমান হামলা চালানো হয়। হামলার তীব্রতায় আশপাশের ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই বিমান হামলার সত্যতা স্বীকার করা হয়েছে। সামরিক সূত্র দাবি করেছে যে তাদের মূল লক্ষ্য ছিল একজন সশস্ত্র ব্যক্তি, এবং তারা বর্তমানে এই হামলার পরিণতি ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়াদি পর্যালোচনা করছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে যে নিহতদের প্রায় সবাই সাধারণ বেসামরিক নাগরিক এবং বিগত কয়েক মাসে এই ধরনের হামলায় শত শত নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

গত অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ইতোমধ্যে এক হাজার একশ পঞ্চাশ ছাড়িয়ে গেছে। নিহতদের একটি বড় অংশই নারী ও শিশু, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও যুদ্ধবিরতির শর্তের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। যুদ্ধবিরতি পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখলেও গাজাজুড়ে প্রায় প্রতিদিনের এই মরণঘাতী হামলাগুলো থামেনি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বারবার আহ্বান সত্ত্বেও উপত্যকার সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতা, বাস্তুচ্যুতি ও মানবেতর জীবনযাপনের মুখোমুখি হচ্ছেন। বিশ্ববাসীর চোখের সামনে ঘটে চলা এই মানবিক বিপর্যয় রোধে এবং যুদ্ধবিরতির পূর্ণ বাস্তবায়নে জরুরি কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের দাবি জোরালো হচ্ছে।

অবরুদ্ধ এই উপত্যকার দুই মিলিয়নের বেশি মানুষ বর্তমানে অত্যন্ত সীমিত এলাকায় গাদাগাদি করে বসবাস করছেন। বেশিরভাগ মানুষই ধ্বংসস্তূপের মাঝে বা অস্থায়ী তাঁবুতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চিকিৎসাসেবা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণের সংকট পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ধরনের নির্বিচারে বেসামরিক নাগরিক হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

banner
Link copied!