ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলমান শিক্ষার্থী বিক্ষোভের মধ্যে দেশটির প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে আটক করেছে পুলিশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় পুলিশ তাকে জোরপূর্বক আটক করে নিয়ে যায়। তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বাধীন এই আন্দোলন ও সরকারের কঠোর দমনপীড়নের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছিল। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভ রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই ছাত্র আন্দোলনের মূল দাবি ছিল শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং সরকারি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ পার্লামেন্টের দিকে মার্চ করার সময় পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের মুখোমুখি হন। এই দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাহুল গান্ধী অবিলম্বে শীর্ষ মন্ত্রীদের পদত্যাগ দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে বর্তমান সরকার দেশের তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিচ্ছে এবং কোনো ধরনের জবাবদিহিতা ছাড়াই দেশ পরিচালনা করছে।
পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেস পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে রাহুল গান্ধী এবং তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাকে আটক করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আটকের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তীব্র ধস্তাধস্তি হয় এবং সেখানে এক বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আটকের পর বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই ধরনের দমনপীড়ন চালিয়ে সরকারের দুর্নীতি ও ব্যর্থতা ঢাকানো যাবে না। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরাও জানিয়েছেন যে পুলিশের দমনমূলক নীতি তাদের মনোবল ভাঙতে পারবে না এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। দেশজুড়ে এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সরকারের এই স্বৈরাচারী মনোভাবের কঠোর সমালোচনা করেছে। সরকারের তরফ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে যে জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরাপত্তার স্বার্থেই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোদি সরকারের সামনে এই ছাত্র আন্দোলন অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সাধারণ মানুষ ও তরুণ প্রজন্মের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে বেকারত্ব ও শিক্ষা খাতের সংকট নিয়ে জনগণের ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতেও ভারতের এই রাজনৈতিক সংকটের খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হচ্ছে। আগামী দিনে এই আন্দোলন কোন রূপ নেয় এবং সরকার কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়, সেদিকেই এখন দেশের সমস্ত রাজনৈতিক মহলের নজর নিবদ্ধ রয়েছে।
