বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

নতুন শুল্ক নীতির প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন গ্রির

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ২১, ২০২৬, ১০:৪১ পিএম

নতুন শুল্ক নীতির প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন গ্রির

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ আগামী শুক্রবার শেষ হতে যাওয়ায় দেশটির প্রশাসন নতুন শুল্ক আরোপের ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রির সম্প্রতি এক গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে এই জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছেন যে প্রায় ষাটটি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর নতুন দফার শুল্ক আরোপিত হতে পারে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে প্রণীত অস্থায়ী শুল্ক নীতিমালার মেয়াদ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই নতুন পদক্ষেপের কথা সামনে এল। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর ফলে বড় ধরনের নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।

সিএনবিসি চ্যানেলের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রির জানান যে খুব দ্রুত এ বিষয়ে দৃশ্যমান ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ দেখতে পাবে বিশ্ববাসী। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা প্রকাশ না করলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন যে এই নতুন শুল্কের আওতায় মার্কিন আমদানির একটি বিশাল অংশ সরাসরি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর আগে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পূর্ববর্তী ব্যাপকভিত্তিক বৈশ্বিক শুল্ক নীতিকে বেআইনি ও সাংবিধানিক এখতিয়ার বহির্ভূত ঘোষণা করেছিল। সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়ের পর প্রশাসন বাণিজ্য আইনের বিকল্প ধারা প্রয়োগ করে এই অন্তর্বর্তীকালীন শুল্কগুলো কার্যকর করেছিল, যার মেয়াদ এখন শেষের পথে।

বর্তমান মেয়াদ শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার পর হোয়াইট হাউস বাণিজ্য আইনের অন্য কঠোর ধারা ব্যবহার করে শুল্ক কাঠামো বজায় রাখার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিভিন্ন দেশের অন্যায্য নীতি, শ্রমবাজারের অনিয়ম এবং জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের বিভিন্ন অভিযোগের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দিতে এই শুল্কগুলো তৈরি করা হয়েছে। চীন, জাপান, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন অর্থনৈতিক শক্তির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই নতুন পদক্ষেপের ফলে মারাত্মক জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিগত কয়েক মাস ধরে ওয়াশিংটন বিশ্বজুড়ে তাদের বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশীয় উৎপাদন শিল্পকে সুরক্ষিত করার জন্য আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করে আসছে।

নতুন এই শুল্ক নীতি বাস্তবায়িত হলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল এবং আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এই ধরনের ধারাবাহিক শুল্ক আরোপের ফলে বৈশ্বিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই একতরফা বাণিজ্য নীতির কারণে ঐতিহ্যগত মিত্র রাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষ বাড়ছে। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছে যে মার্কিন শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করতে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সমতা আনতে এই পদক্ষেপগুলো অপরিহার্য।

আগামী শুক্রবার বর্তমান শুল্কের মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার ঠিক আগে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন বাণিজ্য ব্যবস্থার রূপরেখা প্রকাশ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য অংশীদাররা এই পরিস্থিতির ওপর অত্যন্ত সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রভাব মোকাবেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিকে কোন নতুন সংকটের দিকে নিয়ে যায়, তা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

banner
Link copied!