বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইতালির বোলোগোনায় বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের পর মেলোনির নিন্দা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ২১, ২০২৬, ১০:২৪ পিএম

ইতালির বোলোগোনায় বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের পর মেলোনির নিন্দা

ইতালির বোলোগোনা শহরে পুলিশের হেফাজতে এক মরক্কোর নাগরিকের মৃত্যুর জেরে ছড়িয়ে পড়া সহিংস বিক্ষোভের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রয়টার্স ও আল জাজিরা জানিয়েছে যে গত রবিবার পুলিশি আটকের সময় বিয়াল্লিশ বছর বয়সী আবদেলরহিম ফাকির নামের এক ব্যক্তি মারা যান। এই ঘটনার পর শুরু হওয়া বিক্ষোভে উগ্র প্রদর্শনীর কারণে অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিশ্চিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী মেলোনি এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

নিহত ওই মরক্কান নাগরিক পুলিশের মুখোমুখি হওয়ার পর মাটিতে পড়ে যান এবং শ্বাস নিতে পারছেন না বলে আকুতি জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই শেষ মুহূর্তের ভিডিও দৃশ্যগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অতীতে ঘটে যাওয়া পুলিশি নৃশংসতার ঘটনাগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। এই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং রবিবার রাত থেকে বোলোগোনা শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। সোমবার সন্ধ্যায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল, আতশবাজি ও বোতল নিক্ষেপ করতে শুরু করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। ইতালিয়ান ফেডারেশন অব পুলিশ অফিসার্স জানিয়েছে যে সংঘর্ষে তাদের ছাপ্পান্ন জন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেছেন যে যারা এই মর্মান্তিক ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে শহরজুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে, তারা প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে চায়নি। তিনি যোগ করেন যে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রতিটি দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও নিরপেক্ষ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ানতেদোসি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে বিচার বিভাগীয় তদন্তের ওপর তার সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং আইনের চোখে যেকোনো সাধারণ নাগরিকের মতো পুলিশ অফিসারদেরও নিরাপরাধ হিসেবে গণ্য করার অধিকার রয়েছে। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা সরকারের কঠোর নীতির সমালোচনা করে বলেছেন যে বর্তমান প্রশাসনের ভূমিকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। মানবাধিকার আইনজীবীরা এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ বিচার দাবি করেছেন যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হয়।

বোলোগোনা শহরের কেন্দ্রস্থলে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে শত শত সাধারণ মানুষ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। বিক্ষোভের একপর্যায়ে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে। ইতালির অন্যান্য বড় বড় শহরগুলোতেও এই ঘটনার প্রতিবাদে ছোটোখাটো বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই মৃত্যুর ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছে।

নিহত আবদেলরহিম ফাকিরের আইনজীবী বারবারা স্পিনেলি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে তিনি গত বছর ফাকিরের সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং ফাকির বৈধভাবে বসবাস করা সত্ত্বেও দেশ থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছিলেন। এই ঘটনা ইতালির অভিবাসী সমাজেও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। দেশটিতে বসবাসরত লক্ষাধিক অভিবাসী ও বিদেশি নাগরিক তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এমতাবস্থায় দেশটির সরকার কীভাবে এই জটিল সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

banner
Link copied!