মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনিপন্থী কর্মী মহসিন মাহাদাবির মুক্তির নির্দেশ দেওয়া একটি নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করেছে বলে রয়টার্স ও আল জাজিরা জানিয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই রায়ের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনিপন্থী ছাত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের চলমান বহিষ্কার অভিযানে একটি বড় আইনি সাফল্য অর্জিত হলো। বিচারিক এই সিদ্ধান্তের ফলে মাহাদাবির বিরুদ্ধে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়ে গেছে এবং বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে মার্কিন জেলা জজ জিওফ্রে ক্রাফোর্ড মহসিন মাহাদাবির মুক্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেছিলেন যে তিনি মার্কিন নাগরিকদের মতো একই বাকস্বাধীনতা উপভোগ করেন। তবে আপিল আদালত সেই পূর্বের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে উল্টে দিয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে অভিবাসন আপিল বোর্ড বহিষ্কারের কার্যক্রম পুনর্বহাল করে, যা মূলত একজন অভিবাসন বিচারকের আগের সিদ্ধান্তকে বাতিল করেছিল। ওই অভিবাসন বিচারক প্রমাণাদির অভাবে সরকারের দাবি নাকচ করে দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে জন্ম নেওয়া এবং আইনগতভাবে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়া মহসিন মাহাদাবিকে গত বছরের এপ্রিল মাসে একটি নাগরিকত্ব সাক্ষাৎকারের অজুহাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কোনো অপরাধের অভিযোগ ছাড়াই তাকে দুই সপ্তাহ আটকে রাখা হয়েছিল বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন। মাহাদাবি এই পরিস্থিতির জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করে বলেছেন যে ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার ও সমতার পক্ষে শান্তিপূর্ণ অবস্থানের কারণেই তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বানানো হচ্ছে। ফিলিস্তিনি শরণার্থীর এই আইনি লড়াই মার্কিন ক্যাম্পাসের মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমানা নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও ফেডারেল অভিবাসন আইনের ক্ষমতাবলে এমন যেকোনো বিদেশি নাগরিককে দেশ থেকে বহিষ্কার করার অধিকার রাখেন যাদের উপস্থিতি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তবে মানবাধিকার আইন বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই যুক্তিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলছেন যে এটি মূলত সংবিধান প্রদত্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত এবং সমালোচকদের টুঁটি চেপে ধরার একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল। আইনি লড়াই দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে এই মামলাটি মার্কিন বিচার ব্যবস্থার অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এই আপিল আদালতের রায় শুধুমাত্র মাহাদাবির ব্যক্তিগত আইনি লড়াইকে প্রভাবিত করছে না, বরং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রতিবাদ ও মতপ্রকাশের অধিকারকে শৃঙ্খলিত করতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া নীতি এবং বিচার বিভাগের এই ধারাবাহিক রায়ের ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি আরও কঠোর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাহাদাবির পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন বিচার অঙ্গনে এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি আগামী দিনে আরও গভীর আইনি বিতর্কের জন্ম দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
