ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস জানিয়েছে তারা এখনই নিজেদের অস্ত্র সমর্পণ করবে না। তবে গাজা উপত্যকায় ভবিষ্যতে কেবল আনুষ্ঠানিক ফিলিস্তিনি পুলিশের অস্ত্র দৃশ্যমান থাকবে। সংগঠনটি বলেছে তারা নিজেরা প্রকাশ্যে কোনো অস্ত্র প্রদর্শন করবে না। গাজার সামরিক অস্ত্রভাণ্ডারের চূড়ান্ত ভবিষ্যৎ কী হবে তা অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হুসসাম বাদরান অচল হয়ে পড়া যুদ্ধবিরতি আলোচনা, নিরস্ত্রীকরণ বিতর্ক এবং গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে সংগঠনটির অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন যখন ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে তখন গাজার রাস্তা বা অলিগলিতে এই কমিটির সরকারি অস্ত্র ছাড়া অন্য কোনো দৃশ্যমান অস্ত্র থাকবে না। এই কমিটিই হবে আনুষ্ঠানিক ফিলিস্তিনি পুলিশ।
হুসসাম বাদরান স্পষ্ট করে বলেন গাজা উপত্যকায় অতীতে যেসব সশস্ত্র উপস্থিতি দেখা যেত সেগুলোর আর কোনো প্রকাশ্য অস্তিত্ব থাকবে না। তবে এর অর্থ অস্ত্র হস্তান্তর নয়। তিনি বলেন আমরা অস্ত্র হস্তান্তরের কথা বলছি না। আমরা বলছি সরকারি ফিলিস্তিনি পুলিশের অস্ত্র ছাড়া অন্য কোনো অস্ত্র দৃশ্যমান থাকবে না। এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা একটি জাতীয় কাঠামোর মধ্যেই হবে।
হামাসের এই অবস্থানের মধ্যেই একটি সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে নতুন করে আলোচনা শুরু করতে সংগঠনটি প্রতিনিধি দলকে কায়রো পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সপ্তাহান্তে এসব আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। হামাস শুরুতে আলোচনা কিছু সময়ের জন্য স্থগিত রেখেছিল। তাদের দাবি ছিল চলমান ইসরায়েলি হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।
হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কায়রোতে ফিলিস্তিনের আটটি গুরুত্বপূর্ণ গোষ্ঠীর অংশগ্রহণে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে যেখানে একটি অভিন্ন জাতীয় অবস্থান গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে। হুসসাম বাদরান জানিয়েছেন বৈঠকে হামাস ইসলামিক জিহাদ এবং ফাতাহ আন্দোলনের বিভিন্ন অংশসহ মোট আটটি দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
জাতিসংঘের প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ সম্প্রতি যুদ্ধবিরতির গ্যারান্টিদাতা পক্ষগুলোর তৈরি ১৫ দফার একটি রোডম্যাপ উপস্থাপন করেন। মে মাসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন পুরো পরিকল্পনাটি পারস্পরিকতা ও যাচাই-বাছাইয়ের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। রোডম্যাপে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে কোনো ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে তাদের অস্ত্র ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করতে হবে না। তবে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক উইসাম আফিফা আল জাজিরাকে বলেন ইসরায়েল আলোচনার সময় কাজে লাগিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।
মানবিক পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। গাজার ৮৫ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ৯৪২ জনে। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ৯৬৭ জন। চুক্তি না হলে গাজা বিভক্ত থেকে যাবে এবং হামাস ভূখণ্ডের অর্ধেকেরও কম অংশে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
