বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

হোর্মুজ প্রণালীতে জাহাজের শুল্ক প্রত্যাহার ট্রাম্পের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৫, ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম

হোর্মুজ প্রণালীতে জাহাজের শুল্ক প্রত্যাহার ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে হোর্মুজ প্রণালীতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ নিশ্চিত করেছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মার্কিন প্রশাসন এই বিতর্কিত অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ সরে এসে উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর সাথে নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। হোর্মুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যয়ভার বহনের জন্য এই শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়া হলেও বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লাগার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। হোর্মুজ প্রণালীতে এই আকস্মিক নীতি পরিবর্তন চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা মার্কিন-ইরান সংঘাত অবসানের পথকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে। দুই দেশের মধ্যে এক মাস আগে সম্পাদিত সাময়িক যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারকটি কার্যকর করার প্রচেষ্টা সফল না হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনরায় চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

হোর্মুজ প্রণালীতে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পরপরই মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম ইরানের ওপর পুনরায় কঠোর নৌ অবরোধ আরোপের ঘোষণা কার্যকর করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে যে ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করার পরপরই দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত সাময়িক যুদ্ধবিরতির চুক্তিটি পুরোপুরি ভেস্তে গেছে। জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি মার্কিন মিত্র দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর পাল্টা আক্রমণ জোরদার করেছে যার ফলে এই কৌশলগত জলপথে নৌ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। যা কম স্পষ্ট তা হলো এই সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ও বিশ্ব অর্থনীতি কীভাবে সচল রাখা সম্ভব হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এর আগে আন্তর্জাতিক জলপথে কোনো দেশের শুল্ক আদায়ের আইনি অধিকার নেই বলে যে আন্তর্জাতিক আইনের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন তা ট্রাম্পের এই নতুন নীতিতে পুনরায় প্রতিফলিত হয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিফেন্স প্রায়োরিটিজের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক পরিচালক রোজমেরি কেলানিক জানিয়েছেন যে দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকটি এখন সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। তিনি এই চলমান সংঘাতকে একটি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যা সহজে শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এর আগে বারাক ওবামার আমলে ২০১৫ সালে সম্পাদিত পরমাণু চুক্তির চেয়েও কঠোর কোনো চুক্তিতে ইরানকে বাধ্য করতে মার্কিন প্রশাসন ব্যর্থ হওয়ায় এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনার পারদ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ইরান বর্তমানে মার্কিন বিমান হামলার মুখে তাদের ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠিন সামরিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে এবং নতুন করে আরোপিত মার্কিন অবরোধের কারণে দেশটির প্রধান অর্থনৈতিক উৎস খনিজ তেল রপ্তানির রাজস্ব আয় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেও দেশের অভ্যন্তরে এই ব্যয়বহুল যুদ্ধ নিয়ে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। এই প্রণালীর নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব মার্কিন নৌবাহিনীর হাতে রাখার বিষয়ে ট্রাম্পের নতুন অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে যা বিশ্বব্যাপী মুক্ত নৌ চলাচলের নীতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

banner
Link copied!