মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা থেকে ১৪০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি আয় করেছেন বলে ওয়াশিংটনে এক আর্থিক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে এবং এটি নিয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম বিবিসি নিউজ মঙ্গলবার একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রচার করেছে। হোয়াইট হাউস অবশ্য রাষ্ট্রপতির পদের অপব্যবহার করে ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তবে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে ডিজিটাল মুদ্রার একজন বড় সমর্থক হিসেবে ঘোষণা করার পর এই বিতর্ক নতুন রূপ নিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে ট্রাম্পের এই অবস্থান বিশ্বজুড়ে ক্রিপ্টোকারেন্সির ভবিষ্যৎ এবং এর বৈধতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে। এই বিপুল পরিমাণ আয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিবিসির নতুন প্রামাণ্যচিত্র দ্য টেক বিলিয়নেয়ার টেকওভার-এ উপস্থাপক ম্যাট শিয়া দেখিয়েছেন যে ট্রাম্পের এই সমর্থন আসলে একটি বড় রূপান্তরের সামান্য অংশ মাত্র। তথ্যচিত্রটিতে দেখানো হয়েছে কীভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সির শীর্ষ ধনী আইনজীবীরা বিশ্বজুড়ে তাদের প্রভাব ও ক্ষমতা ক্রমাগত বৃদ্ধি করে চলেছেন। এমনকি তাদের মধ্যে অনেকেই প্রচলিত সরকার ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সম্পূর্ণ সংস্কারের পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচার চালাচ্ছেন। হংকংয়ের মতো বৈশ্বিক বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে এই ডিজিটাল মুদ্রার বিলিয়নেয়ার জাস্টিন সান সহ অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাদের কার্যক্রম জোরালো করছেন যা বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রামাণ্যচিত্রের প্রযোজক জান্ড্রা এলিন এবং অ্যারন কেলার এই বিষয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়েছেন এবং নির্বাহী প্রযোজক ব্রিজেট হার্নি এই পুরো প্রকল্পের তদারকি করেছেন। ট্রাভিস ইভান্সের শব্দ প্রকৌশল এবং চায়না কলিন্সের জ্যেষ্ঠ সংবাদ সম্পাদনায় এই প্রামাণ্যচিত্রটি বিশ্বব্যাপী দর্শকদের সামনে প্রযুক্তি খাতের এই অদৃশ্য ক্ষমতা দখলের চিত্র তুলে ধরেছে। এই প্রামাণ্যচিত্রের একটি তথ্য সংশোধন করে বিবিসি জানিয়েছে যে ট্রাম্পের পরিবার ডব্লিউএলএফআই নামের একটি বিশেষ ক্রিপ্টো কয়েন বিক্রি থেকে প্রাপ্ত নিট মুনাফার ৭৫ শতাংশ পেয়ে থাকে। এর আগে একটি ভুল তথ্যে দাবি করা হয়েছিল যে তারা ইউএসডি১ কয়েন থেকে এই লভ্যাংশ পায় যা পরবর্তীতে সংশোধন করা হয়।
যা কম স্পষ্ট তা হলো মার্কিন প্রশাসনের এই শীর্ষ স্তরের নীতি নির্ধারণে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসায়ীদের এই বিপুল আর্থিক প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষাকে কতটা ঝুঁকির মুখে ফেলবে। বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এই প্রযুক্তিগত ধনকুবেরদের উত্থান প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগামী দিনের অর্থনৈতিক নীতিমালায় এই ডিজিটাল মুদ্রার অন্তর্ভুক্তি আন্তর্জাতিক বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সমালোচকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে রাজনৈতিক ক্ষমতার সাথে এই প্রযুক্তির সংমিশ্রণ বিশ্বজুড়ে নতুন ধরনের একচেটিয়া বাজার তৈরি করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন ভোটার এবং আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি এখন ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নিবদ্ধ রয়েছে।
