রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩

সুদানের জাতীয় সংলাপে অংশ নেওয়াদের সাময়িক অব্যাহতির ঘোষণা আল-বুরহানের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ১৫, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম

সুদানের জাতীয় সংলাপে অংশ নেওয়াদের সাময়িক অব্যাহতির ঘোষণা আল-বুরহানের

সুদানের সার্বভৌম কাউন্সিলের প্রধান ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান একটি স্বাধীন জাতীয় সংলাপ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য সাময়িক দায়মুক্তি এবং আইনি ও রাজনৈতিক সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সুদানের সশস্ত্র বাহিনীর বাহাত্তরতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে খার্তুমে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান যে সংলাপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা যদি বর্তমানে কোনো আইনি অভিযোগ বা মামলার মুখোমুখি হন, তবে সংলাপ চলাকালে তাঁদের বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে। তবে এর মাধ্যমে মূল অভিযোগকারীদের আইনি অধিকার বা বিচার পাওয়ার পথ কোনোভাবেই ব্যাহত হবে না বলে তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন।

আল-বুরহান তাঁর বক্তব্যে আরও পরিষ্কার করেন যে এই পদক্ষেপে অংশগ্রহণকারীদের কোনো আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় ক্ষমা দেওয়া হচ্ছে না, বরং এটি কেবল সংলাপ প্রক্রিয়ায় স্বাধীনভাবে অংশ নেওয়ার সুবিধার্থে একটি আইনি প্রক্রিয়াগত স্থগিতাদেশ মাত্র। একটি স্বাধীন জাতীয় কাঠামোর অধীনে এই সংলাপ পরিচালিত হবে এবং এটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে, যেন সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা সেন্সরশিপ ছাড়াই নিজেদের মতামত, পরামর্শ ও সমালোচনা প্রকাশ করতে পারেন। এই সংলাপে অংশগ্রহণকারীদের প্রকাশিত মতামত ও রাজনৈতিক অবস্থানের পূর্ণ আইনি সুরক্ষা দেওয়া হবে এবং সংলাপের সেশনের কোনো বক্তব্য পরবর্তীতে কোনো আইনি মামলার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না বলে তিনি কঠোর নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

দেশের একদল বিশিষ্ট নাগরিকের স্বতন্ত্র ও স্বাধীন উদ্যোগ হিসেবে এই সংলাপের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে এবং একটি নিরপেক্ষ জাতীয় কমিটি এর সার্বিক তত্ত্বাবধান করবে। আল জাজিরার প্রাপ্ত তথ্য ও কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে যে সংশ্লিষ্ট জাতীয় কমিটি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে একটি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করে এই রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরবে। রাষ্ট্র সরাসরি এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে না এবং এর আলোচ্যসূচি বা ফলাফল নির্ধারণের ক্ষেত্রেও প্রশাসনের কোনো প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ থাকবে না বলে সামরিক প্রধান দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন।

দেশের দীর্ঘস্থায়ী চলমান সংঘাত ও শান্তি প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে জেনারেল আল-বুরহান অত্যন্ত কঠোর ও অনমনীয় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে বর্তমান সরকার যেকোনো আন্তরিক শান্তি উদ্যোগে অংশ নিতে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে, তবে দেশের সার্বভৌমত্বকে বিপন্নকারী কোনো অসম্পূর্ণ শান্তিচুক্তি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। মোহাম্মদ হামদান দাগালো হেমেদতির নেতৃত্বাধীন র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফ এবং তাদের সহযোগীদের পুনর্বাসন বা পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার যেকোনো প্রয়াস তাঁর সরকার শক্ত হাতে প্রতিহত করবে। দেশের ভূখণ্ড থেকে এই সশস্ত্র মিলিশিয়া বাহিনীর সম্পূর্ণ নির্মূল ও সাফাই অভিযান সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি ঘোষণা করেন।

শান্তির পথে টেকসই অগ্রযাত্রার পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে প্রথমে সংঘাতপূর্ণ শহর ও জনপদগুলো থেকে আরএসএফ বাহিনীকে পুরোপুরি সরে গিয়ে নির্দিষ্ট নির্ধারিত সামরিক এলাকায় জড়ো হতে হবে। এরপর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া সাধারণ মানুষ ও শরণার্থীরা যাতে নিজ নিজ বাড়িতে নিরাপদে ফিরে আসতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পরবর্তীতে গুরুতর অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নয় এমন যোদ্ধাদের স্বাভাবিক জীবনে পুনর্বাসন কিংবা নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি বিগত সংকটময় সময়ে রাষ্ট্র ও এর সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমর্থন জানানো বিভিন্ন জাতীয় রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গেও একটি নতুন আইনসভা বা সংসদ গঠনের লক্ষ্যে আলাপ-আলোচনা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

banner
Link copied!