সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

যুক্তরাজ্যের একটি কারখানা দখল করলেন ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীরা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

যুক্তরাজ্যের একটি কারখানা দখল করলেন ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীরা

যুক্তরাজ্যের একটি সামরিক কারখানায় ফিলিস্তিনপন্থী পিপল অ্যাগেইনস্ট জেনোসাইড বা গণহত্যাবিরোধী গোষ্ঠীর কর্মীরা হঠাৎ প্রবেশ করে কারখানাটি দখল করেছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে। সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী কর্তৃক ব্যবহৃত যুদ্ধবিমানের জন্য ইজেকশন সিটের উপাদান বা যন্ত্রাংশ সরবরাহ করার অভিযোগ রয়েছে ওই কারখানাটির বিরুদ্ধে। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান ভয়াবহ সামরিক অভিযানের জেরে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা শিল্প খাতে এই ধরনের সরাসরি প্রতিবাদের ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিক্ষোভকারী গোষ্ঠীটি জোরালো দাবি করেছে যে, তাদের এই প্রত্যক্ষ পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো যুক্তরাজ্যের তরফ থেকে ইসরায়েলি সামরিক কার্যক্রমে চলমান সামরিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ব্যাহত করা। ফিলিস্তিন উপত্যকায় চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এবং স্থানীয় কর্মীরা অস্ত্র রপ্তানি ও সামরিক সরবরাহের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন। মার্টিন-বেকার নামক বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানটির এই কারখানায় সংঘটিত এই অবরোধ ও দখলের ফলে কারখানাটির স্বাভাবিক উৎপাদন ও দাপ্তরিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে চরমভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।

গাজায় অব্যাহত সামরিক অভিযানের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের অস্ত্র অংশীদার ও যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন মানবাধিকার কর্মী ও স্বাধীন তদন্তকারীরা তথ্যপ্রমাণসহ দাবি করেছেন যে, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা কারখানা থেকে পাঠানো বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ ও সামরিক সরঞ্জাম পরোক্ষভাবে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে দেশের ভেতরেও সামরিক শিল্প খাতের ভূমিকা এবং সরকারের রপ্তানি লাইসেন্স নীতি নিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে দ্রুত উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার এবং নিরাপত্তা জোরদার করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে এই ধরনের প্রতিবাদ আন্দোলন ও কারখানা দখলের ঘটনাগুলো যুক্তরাজ্যের অস্ত্র শিল্প এবং দেশটির সরকারের আন্তর্জাতিক নীতির ওপর বাড়তি রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে যতদিন পর্যন্ত এই ধরনের সামরিক সরবরাহ বন্ধ না হবে, ততদিন তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের সরাসরি প্রতিবাদ ব্রিটিশ নীতিনির্ধারকদের ওপর বড় ধরনের নৈতিক ও আইনি চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে যে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে স্থানীয় নাগরিক সমাজের এই ধরনের প্রতিবাদ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী দিনে এই বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয় কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর রয়েছে।

banner
Link copied!