নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের যেকোনো সম্ভাব্য ফেডারেল হস্তক্ষেপ রুখতে প্রস্তুতি জোরদার করেছেন ডেমোক্র্যাট স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল, শীর্ষস্থানীয় রাজ্য কর্মকর্তা এবং নাগরিক সংগঠনগুলো। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশব্যাপী ব্যাপক ভোট জালিয়াতির ভুয়া অভিযোগ বারবার উত্থাপন করে চলেছেন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের পরোক্ষ হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন, যা এই প্রস্তুতির অন্যতম কারণ।
চলতি বছরের শুরু থেকেই চব্বিশজন ডেমোক্র্যাট অ্যাটর্নি জেনারেল প্রায় এক ডজন ডেমোক্র্যাট সেক্রেটারি অব স্টেট এবং বেশ কয়েকটি নাগরিক সংগঠনের সঙ্গে নিজেদের সমন্বয় কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করেছেন। নির্বাচনে যেকোনো ফেডারেল হস্তক্ষেপ মোকাবিলায় কৌশল ঠিক করতে এই অংশীজনেরা নিয়মিত সাপ্তাহিক জুম মিটিং এবং সরাসরি কর্মশালার আয়োজন করে আসছেন।
এই বর্ধিত সহযোগিতার নেতৃত্ব দিচ্ছে প্রগ্রেসিভ স্টেট লিডার্স কমিটি, যা ডেমোক্র্যাট অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাসোসিয়েশনের জননীতি বিষয়ক শাখা। রাজ্যগুলোর নির্বাচন পরিচালনার তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করেন সেক্রেটারি অব স্টেটের অফিস এবং নির্বাচনসংক্রান্ত আইনগুলো রক্ষার দায়িত্ব থাকে স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলদের ওপর।
ডেমোক্র্যাট অ্যাটর্নি জেনারেলরা বিশেষ করে বিচার বিভাগ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য অঙ্গের মাধ্যমে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত জানুয়ারি মাসে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই ট্রাম্প ২০২০ সালের নির্বাচনকে ভুয়া বলে অভিহিত করেছিলেন এবং জো বাইডেনের কাছে পরাজিত হওয়ার পর থেকে শত শত বার একই ধরনের মিথ্যা দাবি করে আসছেন।
ওয়াশিংটনের অ্যাটর্নি জেনারেল নিক ব্রাউন বলেন যে, বিচার বিভাগ এবং ট্রাম্প প্রশাসনই একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা। তিনি যোগ করেন যে ট্রাম্প নির্বাচন নিয়ে নিয়মিত মিথ্যা বলে থাকেন এবং সত্যের প্রতি তাঁর কোনো ভ্রূক্ষেপ না থাকায় তা নানা ধরনের উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে।
বিচার বিভাগ গত গ্রীষ্মে এক হাজার পোল মনিটর বা ভোট পর্যবেক্ষক মোতায়েনের পরিকল্পনা ঘোষণা করে। সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের নির্বাচনে যেখানে মাত্র ২৮৯ জন পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়েছিল, তার বিস্তারিত জানতে গত ৪ অক্টোবর এনএএসিপি একটি মামলা দায়ের করে।
পাশাপাশি, বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগের প্রধান হারমিত ঢিলন গত গ্রীষ্মে রাজ্যের নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে সতর্ক করেছিলেন যে, ভোট জালিয়াতি দমনে পর্যাপ্ত সহযোগিতা করা না হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই হুমকি মোকাবিলায় ব্রাউন সেক্রেটারি অব স্টেটের অফিস এবং ডেমোক্রেসি ডিফেন্ডার্স ফান্ড, স্টেটস ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি সেন্টার ও ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের মতো মূল সুশীল সমাজের অংশীজনদের নিয়ে সাপ্তাহিক জুম মিটিং পরিচালনা করছেন।
প্রগ্রেসিভ স্টেট লিডার্স কমিটির নির্বাচন সুরক্ষা কার্যগোষ্ঠীর প্রধান ও সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর নিক ব্রাউন জানান, জুম মিটিংগুলোতে সাধারণ নির্বাচন নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে ভোটকেন্দ্রের কাছাকাছি অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার এজেন্টদের উপস্থিতি এবং কিছু আসনে ব্যালট জব্দের মতো আশঙ্কাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ব্রাউন গত মে মাসে মিলওয়াউকি এবং সেপ্টেম্বরে ডেট্রয়েটে দুটি সরাসরি কর্মশালারও নেতৃত্ব দেন।
ওরেগনের অ্যাটর্নি জেনারেল ড্যান রেফিল্ডও ট্রাম্পের পক্ষ থেকে নির্বাচন হুমকির মুখে পড়ার বিষয়ে ব্রাউনের আশঙ্কার সঙ্গে একমত পোষণ করেন। রেফিল্ড বলেন যে ট্রাম্প শুরু থেকেই নির্বাচনকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন এবং কর্মকর্তারা ডাকযোগে ভোটদানের ঝুঁকির বিষয়ে প্রশাসনের ছড়ানো ভুল তথ্য খণ্ডনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আরিজোনার ডেমোক্র্যাট সেক্রেটারি অব স্টেট এড্রিয়ান ফন্টেস জানান, অ্যাটর্নি জেনারেলদের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান এই সহযোগিতা ফেডারেল হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রচেষ্টারই প্রতিফলন। ফন্টেস উল্লেখ করেন যে কর্মকর্তারা বর্তমান প্রশাসনকে এক অপ্রত্যাশিত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছেন এবং চলমান মিথ্যা প্রচারণা ভোটারদের উপস্থিতি কমিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
