ভারতের নতুন দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে বাধা দিয়েছে পুলিশ। এ সময় সেখান থেকে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। গত মাসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের জের ধরে এই অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বেশ কয়েকটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের কার্যপদ্ধতিতে আপত্তি জানিয়েছিলেন অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার।
পিপলস এগেইনস্ট এসআইআর সংগঠনের দিল্লি কোঅর্ডিনেটর কমিটির ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া মানুষের হাতে জাতীয় পতাকা দেখা যায়। এ সময় তারা অবিলম্বে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই বিশেষ কার্যক্রম বন্ধ করার দাবি জানান।
নির্বাচন কমিশন দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই বিশেষ নিবিড় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার কারণে ভোটার তালিকা থেকে বড় একটি অংশের নাম বাদ পড়ে গেছে।
বিক্ষোভ চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলের ফুটেজে দিল্লি পুলিশকে মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের আটক করতে দেখা যায়। তবে ঠিক কতজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।
এই কর্মসূচিতে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন অংশ নেয়। বামপন্থী এই ছাত্রসংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
ছাত্র সংগঠনটি লিখেছে, তারা নিজেদের ভোটাধিকার এবং এর জন্য প্রতিবাদের অধিকার কোনোভাবেই ছেড়ে দেবে না। ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ উল্লেখ করে তারা জানান, দেশের এই গণতান্ত্রিক চেতনা বাঁচিয়ে রাখতে তারা বদ্ধপরিকর।
অন্যদিকে, ক্রমবর্ধমান এই সমালোচনার জবাবে ভারতের নির্বাচন কমিশন দাবি করেছে, তাদের নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট আইন ও নির্দেশিকা মেনেই পরিচালিত হয়েছে।
এদিকে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি বিরোধী দলগুলো এবং বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছে।
