মঙ্গলবার, ০৫ মে, ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩

ব্রেকিং নিউজ

জার্মানিতে জনাকীর্ণ রাস্তায় গাড়ি চাপা, নিহত ২ ও আহত ২২

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৫, ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম

জার্মানিতে জনাকীর্ণ রাস্তায় গাড়ি চাপা, নিহত ২ ও আহত ২২

জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় শহর লাইপজিগের কেন্দ্রস্থলে একটি জনাকীর্ণ পদচারী এলাকায় দ্রুতগতির গাড়ি তুলে দেওয়ার ঘটনায় অন্তত দুজন নিহত এবং ২২ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (৪ মে) বিকেলে যখন মানুষ কেনাকাটা এবং বিকালের আড্ডায় ব্যস্ত ছিল, তখনই এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে অন্তত তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। লাইপজিগ পুলিশ ইতিমধ্যে ৩৩ বছর বয়সী এক জার্মান নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে, যিনি ওই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন।

ঘটনটি ঘটে বিকেল প্রায় ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, একটি রূপালী রঙের ভক্সওয়াগেন এসইউভি অগাস্টাসপ্লাজ থেকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে গ্রিমাইশে স্ট্রাসে নামক শপিং এলাকার ভেতরে ঢুকে পড়ে। গাড়িটি প্রায় ৫০০ মিটার এলাকা জুড়ে পথচারীদের ধাক্কা দিতে দিতে এগিয়ে যায়। একপর্যায়ে একটি রিট্র্যাক্টেবল বোলার্ড বা নিরাপত্তা খুঁটিতে ধাক্কা খেয়ে গাড়িটি থেমে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, চালক গ্রেপ্তারের সময় কোনো বাধা দেননি এবং তাকে গাড়ির ভেতর থেকেই আটক করা হয়।

নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে সরকারি প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে একজন ৬৩ বছর বয়সী নারী এবং অন্যজন ৭৭ বছর বয়সী পুরুষ। তারা দুজনেই জার্মান নাগরিক। আহতদের উদ্ধারে দ্রুত ঘটনাস্থলে ৪৪ জন দমকলকর্মী এবং প্রায় ৪০ জন প্যারামেডিক পৌঁছান। গুরুতর আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য দুটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার পর পুরো এলাকাটি পুলিশ কর্ডন দিয়ে ঘিরে ফেলে এবং সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় গ্রিমাইশে স্ট্রাসের একটি রেস্তোরাঁয় বসে ছিলেন ইয়র্গ এবং ইয়ানা হাফনার নামের এক দম্পতি। ইয়র্গ জানান, "আমরা প্রথমে ইঞ্জিনের প্রচণ্ড শব্দ এবং তারপর একটি বিকট আওয়াজ শুনতে পাই।" ইয়ানা, যিনি পেশায় একজন নার্স, তৎক্ষণাৎ আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে ছুটে যান। অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী সুসি জানান, তিনি তার বন্ধুর সাথে একটি বেঞ্চে বসে ছিলেন। গাড়িটি এতো দ্রুত আসছিল যে তারা পাশের একটি জুয়েলারি দোকানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। পরে বেরিয়ে এসে দেখেন রাস্তায় মানুষ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

গ্রেপ্তারকৃত যুবক লাইপজিগ এলাকারই বাসিন্দা। স্যাক্সোনি রাজ্যের গভর্নর মাইকেল ক্রেচমার জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তিটির মানসিক অসুস্থতার ইতিহাস থাকতে পারে। তবে স্যাক্সোনির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরমিন শুস্টার এখনই কোনো নির্দিষ্ট মোটিভ বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, রাগের বহিঃপ্রকাশ নাকি মানসিক অস্থিরতা এর পেছনে দায়ী, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ স্পষ্ট করেছে যে, এই ঘটনায় অন্য কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।

লাইপজিগ মেয়র বুর্খহার্ড জং এই ঘটনাকে ‍‍`একটি ভয়াবহ ট্র্যাজেডি‍‍` হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, "এটি শোকের মুহূর্ত। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল।" ঘটনার পর সেন্ট নিকোলাস গির্জায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়, যেখানে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং আতঙ্কিত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। গির্জার সুপারিনটেনডেন্ট সেবাস্টিয়ান ফেইড জানান, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষকে সহায়তা করার জন্য গির্জাটি সার্বক্ষণিক খোলা রাখা হয়েছে।

জার্মানিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন গাড়ি তুলে দেওয়ার ঘটনা বেশ কয়েকবার ঘটেছে। গত বছর ম্যানহেইমে এবং মিউনিখে একই ধরনের ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। তবে লাইপজিগের এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পুলিশ বর্তমানে ধৃত চালকের বিরুদ্ধে হত্যা এবং হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে। পরবর্তী কয়েকদিন এই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

banner
Link copied!