ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর পর্দা উঠতে যাচ্ছে আগামী সপ্তাহে। এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো আয়োজক দেশ হিসেবে থাকছে তিনটি ভিন্ন রাষ্ট্র—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা। ফিফার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টুর্নামেন্টের উদ্বোধনকে স্মরণীয় করে রাখতে এই তিনটি দেশেই পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের এই চমকপ্রদ পরিকল্পনায় থাকছেন বিশ্বের জনপ্রিয় সংগীত তারকারা। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্যমতে, এই জমকালো আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছেন ইতালীয় প্রযোজক মার্কো ব্যালিচ, যিনি এই বছরের মিলান কর্টিনা শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছিলেন।
মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন জনপ্রিয় গায়িকা শাকিরা এবং নাইজেরিয়ান সংগীতশিল্পী বার্না বয়। তারা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল গান ডাই ডাই পরিবেশন করবেন। মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচের আগে এই পারফরম্যান্স দর্শকদের মুগ্ধ করবে। মেক্সিকোর অনুষ্ঠানে আরও থাকছেন আলেজান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা, ড্যানি ওশান, জে বালভিন, লিলা ডাউন্স, লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলেস, মানা এবং টাইলার মতো বিখ্যাত তারকারা। ফিফা জানিয়েছে যে, অনুষ্ঠানের প্রায় ৯০ মিনিট আগে এই পারফরম্যান্সগুলো শুরু হবে।
কানাডার টরন্টো শহরে ১২ জুন অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচে স্বাগতিক কানাডার প্রতিপক্ষ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। এই ম্যাচের আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মাতাবেন অ্যালানিস মরিসেট এবং মাইকেল বুলে। অন্যদিকে একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে থাকছেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা কেটি পেরি। সেখানে আরও পারফর্ম করবেন লিসা, রমা, আনিতা এবং ফিউচার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে ম্যাচের ঠিক দেড় ঘণ্টা আগে এই শিল্পীরা মঞ্চে আসবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পাশাপাশি টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচেও রাখা হয়েছে বিশেষ বিনোদনের ব্যবস্থা। ফাইনাল উপলক্ষে সুপার বোল স্টাইলে হাফ-টাইম শো আয়োজনের কথা রয়েছে, যেখানে ম্যাডোনা, বিটিএস এবং শাকিরার মতো তারকারা মঞ্চ মাতাবেন। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যখন বিশ্বকাপ হয়েছিল, তখন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডায়ানা রস পারফর্ম করেছিলেন, যা আজও ফুটবল ভক্তদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। এবারেও ফিফা ঠিক সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সংগীত ও ফুটবলের এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটাতে চায়। উদ্বোধনের তারিখ যতই এগিয়ে আসছে, সারা বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের মাঝে ততই উত্তেজনা বাড়ছে। প্রতিটি স্টেডিয়াম এখন পুরোপুরি প্রস্তুত এবং পুরো বিশ্বের চোখ এখন এই তিন দেশের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিকে।
