আগামী ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। ৪৮টি দল নিয়ে ১২টি গ্রুপে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে লড়াইয়ের নতুন আমেজ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে গ্রুপ ই-তে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির উপস্থিতি ফুটবল ভক্তদের নজর কেড়েছে। এই গ্রুপে জার্মানির সঙ্গী হয়েছে ইকুয়েডর, আইভরি কোস্ট এবং প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া কুরাসাও। গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে কোন দল পরের রাউন্ডে যাবে, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
২০০২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা চার আসরে সেমিফাইনাল বা তার চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকা জার্মানির জন্য গত দুটি বিশ্বকাপ ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। উভয় আসরেই তারা গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল। এবার কোচ নতুন কৌশলে দল সাজিয়েছেন। বায়ার্ন মিউনিখের সাতজন ফুটবলারের সমন্বয়ে গঠিত স্কোয়াডটি অভিজ্ঞতার আলোয় আলোকিত। গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ার থেকে শুরু করে জামাল মুসিয়ালা কিংবা ফ্লোরিয়ান উইর্টজ প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্লাবে দারুণ ছন্দে আছেন। তবে রক্ষণভাগে দলের কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে, যা নিয়ে কোচকে ভাবতে হচ্ছে।
অন্যদিকে ইকুয়েডর বর্তমান ফুটবল বিশ্বে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। তাদের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ মোয়েসেস কাইসেডোর হাতে। রক্ষণে উইলিয়ান পাচো এবং আর্সেনালের পিয়েরো হিনকাপি ইউরোপের বড় বড় স্ট্রাইকারদের সামলানোর দক্ষতা রাখেন। ৩৬ বছর বয়সী অভিজ্ঞ এনার ভ্যালেন্সিয়া এবং তরুণ প্রতিভাবান কেন্ড্রি পায়েজ আক্রমণভাগকে শক্তিশালী করেছেন। জার্মানির জন্য তাদের মোকাবিলা করা সহজ হবে না বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘ ১২ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরেছে আইভরি কোস্ট। অ্যামাদ দিয়ালো এবং নিকোলাস পেপের মতো খেলোয়াড়রা তাদের আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি। অভিজ্ঞ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্ক কেসি মাঝমাঠকে সচল রাখবেন। তবে বড় দলের বিপক্ষে লড়াই করার জন্য তাদের দলের গভীরতা কতটা কার্যকর হয়, তা সময়ই বলে দেবে।
ইতিহাস গড়া দল কুরাসাও প্রথমবার বিশ্বকাপের আসরে খেলতে এসেছে। দলে তাহিথ চং এবং অভিজ্ঞ লিয়ান্ড্রো বাকুনার মতো চেনা মুখ থাকলেও, বড় টুর্নামেন্টের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা তাদের নেই। জার্মানি এবং ইকুয়েডরের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদের শুরুর ম্যাচগুলো বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। প্রথমবার খেলতে এসে তারা কতটা চমক দেখাতে পারে, সেদিকেই নজর থাকবে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের।
গ্রুপ ই-এর খেলা ১৪ জুন শুরু হতে যাচ্ছে। জার্মানি এবং কুরাসাওয়ের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে এই গ্রুপের লড়াইয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। প্রতিটি ম্যাচের ফলাফল গ্রুপের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। ফুটবলপ্রেমীরা এখন প্রতীক্ষায় আছেন, শেষ পর্যন্ত কোন দুই দল নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়।
