চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি তাদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের মিশনে বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মঞ্চে প্রস্তুত। ২০১৪ সালের মারাকানা ফাইনালে শিরোপা জয়ের পর থেকে গত এক দশকে জার্মানি বিশ্বমঞ্চে উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য পায়নি। ২০১৮ এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে দলটির বিদায় বিশ্ব ফুটবলের জন্য ছিল একটি বড় বিস্ময়। তবে ঘরের মাঠে উয়েফা ইউরো ২০২৪-এ নিজেদের মেলে ধরার পর থেকে দলটি আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। ফুটবল বিশ্বে জার্মানি তাদের সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবারের আসরে বদ্ধপরিকর।
দলের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা এখন তাদের মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের সৃজনশীল খেলোয়াড়রা। জামাল মুসিয়ালা, ফ্লোরিয়ান উইর্টজ এবং লেনার্ট কার্লের মতো তরুণ প্রতিভারা কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানের কৌশলের মূল ভরসা। রক্ষণভাগের পেছনে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ জয়ী গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ারের প্রত্যাবর্তন দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে দলের মূল স্ট্রাইকার পজিশন এবং ডাবল পিভট মাঝমাঠের সঠিক সমন্বয় খুঁজে পাওয়া নাগেলসম্যানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
জার্মানি তাদের অভিযান শুরু করবে আগামী ১৪ জুন কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এর আগের দুটি বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে হার তাদের টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেওয়ার প্রধান কারণ ছিল। তাই এবারের শুরুটা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলটির ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে কাই হাভার্টজ একক স্ট্রাইকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রথম ম্যাচের ছন্দ ধরে রাখতে পারলে দলটির পরবর্তী রাউন্ডের পথ সহজ হবে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
কোচ নাগেলসম্যানের বয়স এবং তার কৌশল নিয়ে জার্মান ফুটবলে অনেক আলোচনা হচ্ছে। তবে বাছাইপর্বে টানা চারটি জয়ের মাধ্যমে তারা বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে, যা দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। বিশ্বকাপে রাউন্ড অব ৩২ পার করার পর পরবর্তী ধাপে শক্তিশালী ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের। বিশ্বকাপের ইতিহাসে আটবার ফাইনাল খেলা জার্মানি কি পারবে পঞ্চম শিরোপা ঘরে তুলতে? সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে আগামী সপ্তাহের ম্যাচগুলো থেকে। এখন দেখার বিষয়, নাগেলসম্যানের নতুন দর্শন ও তরুণ তুর্কিদের ওপর ভর করে জার্মানি কত দূর যেতে পারে।
