মুদ্রাস্ফীতি কিংবা বৈশ্বিক অর্থনীতির জটিল সমীকরণ বিশ্লেষণে অভ্যস্ত অর্থনীতিবিদরা এবার তাদের দৃষ্টি ফিরিয়েছেন ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের উদ্যোগে পরিচালিত এক বৈশ্বিক জরিপে অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ট্রফি শেষ পর্যন্ত উঠতে পারে ফ্রান্সের হাতেই। জরিপে অংশ নেওয়া ১৬০ জন বিশেষজ্ঞের বড় একটি অংশ এই পূর্বাভাস দিয়েছেন। গত ১১ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত এই জরিপ পরিচালিত হয়েছে, যেখানে অংশগ্রহণকারীদের লক্ষ্য ছিল বৈশ্বিক সংকটের ধকল কাটিয়ে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজস্ব মতামত তুলে ধরা।
জরিপে অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ ফ্রান্সকে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তাদের মতে, গত ২০২২ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে হতাশাজনক হারের পর থেকে ফরাসি দলটি এবারের আসরের জন্য দারুণভাবে প্রস্তুত হয়েছে। জরিপ অনুসারে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা স্পেনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৩১ শতাংশ বিশেষজ্ঞ। যদি এই পূর্বাভাস বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তা ইউরোপীয় ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বকে নতুন করে উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিশেষ করে কোচ দিদিয়ের দেশম ১৯৩৮ সালের পর প্রথম কোচ হিসেবে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য রেকর্ড গড়তে পারেন।
তবে ফুটবলের পরাশক্তি ব্রাজিলের ক্ষেত্রে পূর্বাভাস বেশ হতাশাজনক। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় ফ্লপ বা ব্যর্থ দল হিসেবে গণ্য হতে পারে। ফুটবলীয় ঐতিহ্যের বিপরীতে ব্রাজিলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং দলের অগোছালো অবস্থার কারণে অর্থনীতিবিদরা এই নেতিবাচক ধারণা পোষণ করছেন। ফ্লপের তালিকায় জার্মানির নামও উঠে এসেছে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে তালিকার প্রথম সারিতে রাখা হলেও ফ্রান্স ও স্পেনের তুলনায় তাদের সমর্থন কিছুটা কম।
অর্থনীতিবিদদের এই জরিপটি মূলত ফুটবলের অজেয় অনিশ্চয়তাকে তুলে ধরেছে। অনেক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির চেয়েও ফুটবলের ম্যাচের ফলাফল প্রেডিক্ট করা অনেক বেশি কঠিন। বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট এবং মুদ্রাস্ফীতির মতো জটিল বিষয় নিয়ে কাজ করার মাঝে এই জরিপটি ছিল তাদের জন্য এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি। যদিও বেশিরভাগ অংশগ্রহণকারী তাদের নিজস্ব মডেল ও তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন, তবে অনেকেই জানিয়েছেন যে তাদের এই পূর্বাভাসের পেছনে অনেকটা কাজ করেছে ব্যক্তিগত অনুভূতি বা গুট ফিলিং।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি হতে যাচ্ছে ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে সবচেয়ে বড় আসর। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের প্রতিটি ধাপেই যে নাটকীয়তার সম্ভাবনা রয়েছে, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের কোনো দ্বিমত নেই। জরিপের এই ফলাফল শেষ পর্যন্ত সঠিক হয় কিনা, তা দেখার জন্য ফুটবল বিশ্বকে অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত, যখন ফাইনাল ম্যাচের মাধ্যমে নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের নাম চূড়ান্ত হবে।
