২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের খেলা চলাকালীন বিশ্ব ফুটবলের ১০ জন কিংবদন্তি তারকা খেলোয়াড় সম্ভবত তাদের ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলছেন বলে মঙ্গলবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক বিশেষ প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে এই তারকাদের অবদান অপরিসীম হলেও বয়সের কারণে আগামী ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে তাদের দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এই তালিকায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন লিওনেল মেসি থেকে শুরু করে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং লুকা মদ্রিচের মতো মহাতারকারা রয়েছেন। বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রেমীদের জন্য এই টুর্নামেন্টটি তাই একই সাথে আনন্দের এবং এক যুগের অবসানজনিত বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আর্জেন্টিকার ৩৯ বছর বয়সী অধিনায়ক লিওনেল মেসি তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলছেন। কাতার বিশ্বকাপে দলকে শিরোপা এনে দেওয়ার পরও তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে যাননি। বিশ্বমঞ্চে ১৯টি গোল ও ৮টি অ্যাসিস্ট করে তিনি ইতিমধ্যে অনন্য রেকর্ড গড়েছেন এবং টানা সাতটি ম্যাচে গোল করার গৌরব অর্জন করেছেন। অন্যদিকে তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগালের ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২৩১টি ম্যাচ ও ১৪৫টি গোলের মালিক রোনালদো গত সপ্তাহে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে পর্তুগালের হয়ে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরা তার বাকি রয়েছে। ক্রোয়েশিয়ার ৪০ বছর বয়সী মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচ এই আসরে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে অ্যাসিস্ট করার রেকর্ড গড়েছেন। পাঁচ বিশ্বকাপে ২২টি ম্যাচ খেলা মদ্রিচ ৪০ লাখেরও কম জনসংখ্যার দেশের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে এখনও মাঠ মাতাচ্ছেন।
জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ার এবং ব্রাজিলের ৩৪ বছর বয়সী তারকা নেইমারও এই তালিকায় রয়েছেন। ৪০ বছর বয়সী নয়ারকে কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান অবসর ভেঙে দলে ফিরিয়েছিলেন, তবে রাউন্ড অব ৩২-এ প্যারাগুয়ের কাছে হেরে জার্মানির বিদায়ের পর তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটেছে। ব্রাজিলের নেইমার ইনজুরি কাটিয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে অশ্রুসিক্ত নয়নে মাঠে ফিরেছিলেন এবং ১৪টি বিশ্বকাপ ম্যাচে তার ৮টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট রয়েছে। বেলজিয়ামের ৩৫ বছর বয়সী কেভিন ডি ব্রুইনে তার চতুর্থ বিশ্বকাপে খেলছেন এবং রাউন্ড অব ৩২-এ মিশরের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নেদারল্যান্ডসের ৩৪ বছর বয়সী অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডাইকের এবারের আসরটি মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে শেষ হয়ে গেছে।
যা কম স্পষ্ট তা হলো এই কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের বিদায়ের পর বিশ্ব ফুটবলে যে শূন্যতা তৈরি হবে তা নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা কতদিনে পূরণ করতে পারবেন। মিশরের ৩৪ বছর বয়সী মোহাম্মদ সালাহ নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে দলকে রাউন্ড অব ৩২-এ নিয়ে গেছেন, যা ১৯৩৪ সালের পর দলটির প্রথম বিশ্বকাপ জয় ছিল। সালাহ আগামী শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবেন যেখানে জয় লাভ করলে কোয়ার্টার ফাইনালে মেসির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ৩৩ বছর বয়সী সন হিউং-মিন এবং সেনেগালের ৩৪ বছর বয়সী সাদিও মানের জন্যও এটি বিদায়ের মঞ্চ। দক্ষিণ কোরিয়া ইতিমধ্যে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে এবং সন শেষ ম্যাচে শুরুর একাদশ থেকে বাদ পড়েছিলেন। সেনেগালের মানে বুধবার বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে মাঠে নামবেন। এই মহাতারকাদের বিদায়ের মধ্য দিয়ে আধুনিক ফুটবলের একটি সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে চলেছে।
