বৈশ্বিক বার্তা আদান-প্রদান প্রযুক্তি খাতে বড় পরিবর্তন এনে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ এখন থেকে ফোন নম্বরের পরিবর্তে ইউজারনেম ব্যবহারের সুবিধা চালুর ঘোষণা দিয়েছে বলে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মেটা সদর দপ্তর থেকে আল জাজিরা ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই নতুন ব্যবস্থার আওতায় হোয়াটসঅ্যাপের প্রায় তিনশ কোটি বৈশ্বিক গ্রাহক নিজেদের অ্যাকাউন্টের জন্য একটি অনন্য নাম বা হ্যান্ডেল সংরক্ষণ করতে পারবেন। বিশ্বের ১৮০টিরও বেশি দেশে এবং ৬০টিরও বেশি ভাষায় ব্যবহৃত এই যোগাযোগের মাধ্যমে গোপনীয়তা রক্ষায় দীর্ঘদিনের যে দাবি ছিল, তা পূরণে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে চলতি বছরের শেষের দিকে এই সেবাটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে, তবে ইতোমধ্যে সীমিত আকারে নির্দিষ্ট কিছু ব্যবহারকারীকে এই নাম অগ্রিম বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া শুরু হয়েছে।
গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা অতীতে বহুবার কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতির উন্নয়নে হোয়াটসঅ্যাপের পণ্য বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালিস নিউটন-রেক্স সাংবাদিকদের বলেন যে তারা এই বৈশিষ্ট্যটিকে একটি মূল গোপনীয়তা রক্ষা কবচ হিসেবে নকশা করেছেন। ব্যবহারকারীদের জন্য এটি অত্যন্ত নিরাপদ হবে কারণ এখানে কোনো উন্মুক্ত বা সর্বজনীন নামের তালিকা থাকবে না এবং কোনো নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে খোঁজার সুযোগও থাকবে না। অর্থাৎ নতুন কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হলে তার নির্দিষ্ট ও সঠিক নামটি হুবহু জানতে হবে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা পাঠানো বন্ধ করতে বড় ভূমিকা রাখবে। যা কম স্পষ্ট তা হলো, এই নতুন পরিবর্তনটি সাধারণ গ্রাহকদের দৈনন্দিন ব্যবহারের অভ্যাসে কতটা দ্রুত মানিয়ে যাবে এবং এর ফলে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলার প্রবণতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে কিনা।
নতুন এই ব্যবস্থায় প্রতারকদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী যুক্ত করা হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ঐচ্ছিক ইউজারনেম চাবিকাঠি বা একটি সংক্ষিপ্ত সংখ্যা কোড, যা সচল থাকলে কেবল নাম জানলেই হবে না, বরং সঠিক কোডটি না দিলে কেউ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না। একই সঙ্গে নতুন একটি অ্যাকাউন্ট থেকে দৈনিক কতজন অপরিচিত মানুষের সাথে বার্তা আদান-প্রদান করা যাবে, তার ওপরও একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে যেকোনো ধরনের অপব্যবহার বা অনিয়ম শনাক্ত করতে সক্ষম এবং এটি ক্ষতিকর ছদ্মনামধারী অ্যাকাউন্টগুলোকে সরাসরি ব্লক বা নিষিদ্ধ করে দেবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে যেখানে একটি ব্যক্তিগত ফোন নম্বর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকে, সেখানে সেটি অপরিচিত কারও কাছে প্রকাশ করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কোনো সহপাঠী, প্রতিবেশী কিংবা হঠাৎ দেখা হওয়া কোনো ব্যক্তির সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সরাসরি নম্বর শেয়ার করার চেয়ে একটি সাধারণ নাম ব্যবহার করা অনেক বেশি সহজ ও স্বস্তিদায়ক। হোয়াটসঅ্যাপ তাদের দাপ্তরিক ব্লগে উল্লেখ করেছে যে ফোন নম্বর অত্যন্ত ব্যক্তিগত একটি বিষয় এবং জীবনযাত্রার অনেক অংশের সাথে এটি জড়িয়ে থাকে। তাই গ্রাহকরা যাতে নিজেদের নম্বর অন্যকে না দিয়েই স্বাচ্ছন্দ্যে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই এই আধুনিক রূপান্তর আনা হয়েছে, যা মেসেজিং প্রযুক্তির দুনিয়ায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
