বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল স্পেন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৫, ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম

সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল স্পেন

স্পেন মঙ্গলবার ড্যালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে মর্যাদাপূর্ণ বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বলে বিবিসি নিউজ নিশ্চিত করেছে। লুইস ডি লা ফুয়েন্তের নির্দেশনায় স্প্যানিশ দলটি পুরো ম্যাচ জুড়ে তাদের চমৎকার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে এবং ফরাসি আক্রমণভাগকে কোনো সুযোগ না দিয়েই সহজ জয় তুলে নেয়। প্রথমার্ধে পেনাল্টি থেকে মিকেল ওয়ারজাবাল দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ফুল-ব্যাক পেড্রো পোরো ব্যবধান দ্বিগুণ করে দলের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন। এই জয়ের মাধ্যমে ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করলো ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি স্পেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেলেও স্পেনের পরিকল্পিত ফুটবলের সামনে ফ্রান্সের তারকাসমৃদ্ধ দলটির কৌশল ব্যর্থ প্রমাণিত হয়। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ফ্রান্সের লেফট-ব্যাক লুকাস দিনিয়ে নিজেদের ডি-বক্সের ভেতর স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামালকে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে আঘাত করলে রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পেনের নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় ওয়ারজাবাল অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় পেনাল্টি কিকটি জালে জড়িয়ে স্প্যানিশ শিবিরে উল্লাসের জোয়ার আনেন। এক গোলের লিড নেওয়ার পর স্পেনের মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগ আরও বেশি সুসংহত হয়ে ওঠে এবং ফরাসিদের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।

দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে ফরাসি দল মাঠে নামলেও তাদের আক্রমণগুলো স্পেনের শৃঙ্খলিত রক্ষণব্যূহে এসে বারবার থমকে যায়। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ডান প্রান্ত থেকে দানি অলমোর সাথে দুর্দান্ত এক-দুই পাসের সমন্বয়ে ফ্রান্সের বক্সে ঢুকে পড়েন পেড্রো পোরো এবং দারুণ এক شটে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান ২-০ করেন। দুই গোল হজম করার পর ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম কিছু পরিবর্তন এনে আক্রমণ জোরদার করার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। যা কম স্পষ্ট তা হলো ফরাসি দলটির এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পেছনে খেলোয়াড়দের ক্লান্তি নাকি কোচের রণকৌশলের ভুল দায়ী ছিল।

এই পরাজয়ের ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল ফরাসিদের। এই ম্যাচটি ফরাসি ফুটবলের একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়েছে কারণ দীর্ঘ ১৪ বছর দলের কোচের দায়িত্ব পালন করার পর দিদিয়ের দেশম এই টুর্নামেন্টের পর পদত্যাগ করছেন। আগামী শনিবারের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটিই হবে ফরাসি ডাগআউটে তার শেষ উপস্থিতি। অন্যদিকে এই জয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা ৩৭ ম্যাচে অপরাজিত থাকার ইতালির ঐতিহাসিক রেকর্ড স্পর্শ করেছে স্পেন। একই সাথে স্প্যানিশ তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল জাতীয় দলের হয়ে তার অপরাজিত থাকার চমৎকার ধারাটি অক্ষুণ্ন রেখেছেন।

স্পেন এখন নিউ জার্সির উদ্দেশ্যে রওনা হবে যেখানে তারা আগামী রবিবারের ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা অথবা ইংল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী দলের। আসরে এ পর্যন্ত মাত্র একটি গোল হজম করা স্পেন তাদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। ড্যালাসের ঐতিহাসিক এই জয় স্প্যানিশ ফুটবলের এক নতুন সোনালী প্রজন্মের উত্থানকে বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করেছে। পুরো বিশ্ব এখন অপেক্ষা করছে নিউ জার্সির ফাইনাল মহারণের জন্য যেখানে ইউরোপের সেরা দলটি তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চূড়ান্ত লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবে।

banner
Link copied!