ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক ম্যানেজার রবার্তো মানচিনি জানিয়েছেন যে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে তার দায়িত্ব পালনকালে কথিত গোপন দ্বৈত চুক্তির অভিযোগ নিয়ে তিনি বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন। সম্প্রতি একটি স্বাধীন প্যানেল আর্থিক বিধিলঙ্ঘনের একশত পনেরোটি অভিযোগের প্রায় সবকটিতেই ইংলিশ ক্লাবটিকে দোষী সাব্যস্ত করার পর এই প্রতিক্রিয়া দেন তিনি। ক্লাবটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্তত চৌদ্দটি ছিল খেলোয়াড় ও ম্যানেজারের আর্থিক পারিশ্রমিকের প্রকৃত তথ্য গোপন করা সংক্রান্ত। মানচিনির সাড়ে তিন বছরের দায়িত্ব পালনকালেই ম্যানচেস্টার সিটি ২০১১ সালে এফএ কাপ এবং ২০১২ সালে দীর্ঘ চুয়াল্লিশ বছর পর নিজেদের প্রথম শীর্ষ লিগ শিরোপা জিতেছিল।
সাবেক এই কোচ দাবি করেছেন পুরো বিষয়টি ক্লাবের নিজস্ব সমস্যা।
ইতালি জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকা মানচিনি তুরস্কের বিপক্ষে আসন্ন নেশন্স লিগ ম্যাচের আগের এক সংবাদ সম্মেলনে এই সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখোমুখি হন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ক্লাবটি কিসের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছে তা তার জানা নেই এবং এই বিতর্কটি কোনোভাবেই তার সাথে সম্পর্কিত নয়। মানচিনি উল্লেখ করেন যে গত চার বা পাঁচ বছর ধরেই এই পুরনো বিষয়টি ঘুরেফিরে আসছে এবং তার দৃষ্টিতে ক্লাব এখনও দোষী প্রমাণিত হয়নি। নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি জানান যে তথাকথিত দ্বৈত চুক্তি থাকলে সেটি একান্তই ক্লাব প্রশাসনের ব্যাপার, তার ব্যক্তিগত বিষয় নয়।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পূর্বে প্রকাশিত তদন্তে এই আর্থিক প্রক্রিয়ার বিস্তারিত প্রকাশ পেয়েছিল।
জার্মান সাময়িকী ডের স্পিগেল পূর্বে দাবি করেছিল যে ম্যানচেস্টার সিটি তাদের তৎকালীন কোচকে গোপন পরামর্শক চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত বেতনের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে আবুধাবির ক্লাব আল জাজিরার উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার জন্য তাকে মূল কোচিং পারিশ্রমিকের চেয়েও বেশি অর্থ প্রদান করা হতো। স্বাধীন প্যানেলের প্রাথমিক নিষ্পত্তিতে ক্লাবটির বিরুদ্ধে আনা সিংহভাগ আর্থিক অভিযোগ প্রমাণিত হলেও শাস্তির ধরন কী হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ঘটনার পর প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নীরবতা পালন করছে।
ম্যানচেস্টার সিটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে প্রিমিয়ার লিগের বিচারিক প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি এবং বিষয়টি আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী অত্যন্ত গোপনীয়। ক্লাবটির দাবি, তারা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি সম্মান দেখিয়ে দীর্ঘ আট বছর ধরে প্রতিটি নিয়ম মেনে চলেছে। তবে লিগের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবগুলো ইতিমধ্যেই আদালতের রায়ের সম্ভাব্য প্রভাব এবং অতীত আর্থিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য শীর্ষ আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। চার বছরের প্রাথমিক তদন্তের পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই ঐতিহাসিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল, যার শুনানি সম্পন্ন হয় ২০২৪ সালের শেষভাগে।
