রাওয়ালপিন্ডিতে ইংল্যান্ডের দেওয়া ৪৩০ রানের বিশাল লক্ষ্য এক বল বাকি থাকতেই টপকে এক অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। পুরুষদের ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার ঘটনা। এর চেয়ে বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের একমাত্র রেকর্ডটি দুই দশক আগের ৪৩৮ রান টপকানোর ম্যাচটির দখলে রয়েছে।
ইংল্যান্ডের হয়ে ওয়ানডে ইতিহাসের দ্রুততম দ্বিশতক হাঁকিয়েছেন হারি ব্রুক। মাত্র ১১৪ বল খেলে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। এর ফলে তিন সপ্তাহ আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শুবমান গিলের ১১৭ বলে করা দ্বিশতকের রেকর্ড ভেঙে গেছে। ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্বিশতক করেও পরাজিত দলে থাকার লজ্জাজনক রেকর্ডটি এখন ব্রুকের।
নিজের ২০২ রানের এই ইনিংসজুড়ে চমৎকার ফুটওয়ার্ক দেখান ব্রুক। উইকেটের পেছনে র্যাম্প, স্কুপ ও স্লাইস শটে তিনি রান তুলেছেন অনায়াসে। তাকে দারুণ সহায়তা করেন উইল জ্যাকস, যিনি ৩০ বলে অপরাজিত ৬৬ রান করেন। এছাড়া ইনিংসের শুরুতে টম ব্যান্টনও ফিফটি তুলে নিয়ে সিরিজে নিজের ভালো ফর্ম ধরে রাখেন।
এই ম্যাচের আগে একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছিল ইংল্যান্ড। লেগ স্পিনার আদিল রশিদের পরিবর্তে সুযোগ দেওয়া হয় বাঁহাতি স্পিনার লিয়াম ডসনকে। লঙ্কান বোলারদের মধ্যে একমাত্র দুনিত ভেল্লালাগে কিছুটা সফলভাবে ব্রুককে আটকে রাখতে পেরেছিলেন। তার করা স্পেলে কোনো বাউন্ডারি হাঁকাতে পারেননি এই ইংলিশ ব্যাটার।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে শ্রীলঙ্কা। কোনো বল মোকাবেলা না করেই রানআউট হয়ে ফেরেন অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস। এরপর কামিন্দু মেন্ডিসকে বোল্ড করেন জশ টাং। দলীয় ২৪ রানে দুই উইকেট হারানোর পর ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন পবন রত্নায়েকে ও আভিষ্কা ফার্নান্দো। তৃতীয় উইকেটে তারা যোগ করেন ১৬৬ রান।
শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বোচ্চ ১৩০ রান আসে পবন রত্নায়েকের ব্যাট থেকে। ৮৭ বলের এই ইনিংসে তিনি দেখান পরিপক্বতা। আভিষ্কা ফার্নান্দো ৯৭ রান করে জেমি ওভারটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এর আগে বল হাতে খরচে থাকলেও ব্যাটিংয়ে নেমে ৮টি ছক্কার সাহায্যে এক আগ্রাসী ইনিংস খেলেন দাসুন শানাকা। তিনি আউট হন ৯৭ রান করে।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে রত্নায়েকে ও শানাকা আউট হলে ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি করে ইংল্যান্ড। তবে শেষ ওভারে ছক্কা হাঁকিয়ে শ্রীলঙ্কার জয় নিশ্চিত করেন জানিথ লিয়ানাগে। এই হারের ফলে ত্রিদেশীয় সিরিজে জয়শূন্যই রইল ইংলিশরা।
