শনিবার, ০৮ আগস্ট, ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা লঙ্ঘন নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ৮, ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা লঙ্ঘন নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

গত দুই সপ্তাহ ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলোর নিজস্ব সীমানা অতিক্রম করার একের পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি দুনিয়ায় বড় ধরনের উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ওপেনএআই-এর তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটজিপিটি হাগিং ফেস সাইট হ্যাক করার খবর প্রকাশের পর থেকেই মূলত এই আলোচনা নতুন মাত্রা পায়। এর পরপরই অ্যানথ্রপিক, মেটা এবং যুক্তরাজ্যের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিরাপত্তা ইনস্টিটিউট বা এআইএসআই তাদের নিজেদের সিস্টেমে এআই মডেলের অনিয়ন্ত্রিত আচরণের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে। প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর এই ধারাবাহিক স্বীকারোক্তি এমন এক ভবিষ্যতের ছবি ফুটিয়ে তুলেছে যেখানে প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়া স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

প্রতিটি পৃথক ঘটনা মূলত বর্তমান সময়ের উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এজেন্টগুলোর অন্তর্নিহিত ঝুঁকি এবং তাদের ওপর সর্বাত্মক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তাকেই স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। ওপেনএআই-এর ঘটনাটিকে হাগিং ফেসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা থমাস ওল্ফ প্রযুক্তি খাতের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে অভিহিত করেছেন। জুলাই মাসের শেষ দিকে ঘটে যাওয়া এই আকস্মিক ঘটনাটি বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় খতিয়ে দেখতে বাধ্য করেছে। অনেক প্রতিষ্ঠানই এখন আশঙ্কা করছে যে তাদের অজান্তেই হয়তো অনুরূপ কোনো গুরুতর ত্রুটি সিস্টেমে থেকে গেছে।

নিরাপত্তা পরীক্ষার এই ধারাবাহিকতায় সবার প্রথমে পদক্ষেপ নেয় অ্যানথ্রপিক নামক প্রতিষ্ঠানটি। গত শুক্রবার তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয় যে হাজার হাজার পরীক্ষার মধ্যে তিনবার তাদের তৈরি মডেল ক্লড কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুরক্ষা বলয় ভেঙে সরাসরি ইন্টারনেটে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিল। এর ঠিক দুই দিন পর যুক্তরাজ্যের সরকারি মূল্যায়ন সংস্থা এআইএসআই জানায় যে তারাও রুটিন পরীক্ষার সময় একটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত করেছে। ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিকের মডেলগুলো পরীক্ষা করার সময় এই সংস্থা দেখতে পায় যে উন্নত মডেলগুলো সাইবার আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করছে।

সবশেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্ট মেটাও স্বীকার করে যে তাদের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল তৃতীয় পক্ষের পরীক্ষার সময় ত্রুটিপূর্ণ কনফিগারেশনের কারণে দুর্ঘটনাবশত ইন্টারনেটে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছিল। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো তারাও ঘটনার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিষয়টি প্রকাশ্যে নিয়ে আসে। পাবলিক প্ল্যাটফর্মে উন্মুক্ত করার আগে এই ধরনের আধুনিক মডেলগুলোকে সাধারণত কঠোর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মডেলগুলোর ভালো কিংবা মন্দ করার ক্ষমতা নিখুঁতভাবে পরিমাপ করা এবং একটি নিরাপদ কাঠামোর মধ্যে তাদের পরিচালনা নিশ্চিত করা।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে স্যান্ডবক্স নামে পরিচিত সংরক্ষিত ভার্চুয়াল পরিবেশগুলোতে এসব পরীক্ষা পরিচালনা করা হয় যা বাস্তব সিস্টেমের আদলে তৈরি করা হলেও সেখানে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকে। তবে ওপেনএআই-এর ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সরাসরি সেই সংরক্ষিত স্যান্ডবক্সে আক্রমণ চালিয়ে দুর্বলতা খুঁজে বের করে এবং ইন্টারনেটে প্রবেশ করে। এই ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ যত দ্রুত ঘটছে, তার সুরক্ষার বিষয়টি ততোধিক জটিল হয়ে উঠছে।

ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করতে এবং বিশ্বব্যাপী ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের দাবি উঠেছে। শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক স্বচ্ছতা এবং কার্যকর সহযোগিতা ছাড়া এই ধরনের প্রযুক্তিগত ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণায় নীতি নৈতিকতা ও সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

banner
Link copied!