প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফটের তৈরি করা একটি নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা সাম্প্রতিক মূল্যায়নে জটিল চিকিৎসাসংক্রান্ত ঘটনায় ৮৩ শতাংশ পর্যন্ত সঠিক রোগ নির্ণয় করতে পেরেছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
তুলনামূলক মূল্যায়নে দেখা গেছে, চিকিৎস্যপুস্তক ও অনলাইনে থাকা বিভিন্ন তথ্য ব্যবহার করে চিকিৎসকেরা একই ধরনের মূল্যায়নে ৩৬ শতাংশ নির্ভুলতা অর্জন করেছিলেন। আর কোনো ধরনের সাহায্যকারী উৎস ছাড়া কাজ করা চিকিৎসকদের সঠিক রোগ নির্ণয়ের হার ছিল মাত্র ২২ শতাংশ।
গবেষকেরা এমএআই-ডিএক্সও নামের এই প্রযুক্তিটি পরীক্ষা করতে দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন থেকে নেওয়া ৩০৪টি জটিল কেস ব্যবহার করেছিলেন। সফটওয়্যারটি উপসর্গ মূল্যায়ন করতে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা বেছে নিতে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে একত্রে কাজ করা একাধিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এজেন্ট ব্যবহার করে থাকে।
প্ল্যাটফর্মটি সাধারণ জরুরি বিভাগের বিভিন্ন পরিস্থিতিতেও বেশ ভালো পারফর্ম করেছে। সাধারণ জরুরি কেসগুলোতে এটি ৮০ শতাংশ নির্ভুলতা অর্জন করেছে, যেখানে চিকিৎসকেরা সফল হয়েছেন ৪৭ শতাংশ ক্ষেত্রে।
মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রযুক্তিটি রোগ নির্ণয়ের খরচ কমিয়ে আনতে পারে। কারণ এটি উচ্চ নির্ভুলতা বজায় রেখেই কম বা কম খরচে করা যায় এমন চিকিৎসাপদ্ধতিগুলো বেছে নিতে সক্ষম।
খরচ কমানোর উপযোগী একটি বিন্যাসে এই সিস্টেমটি জটিল কেসগুলোতে ৮১ শতাংশ নির্ভুলতা অর্জন করেছে, যার খরচ ছিল তুলনামূলক অন্যান্য সিস্টেমের আনুমানিক খরচের অর্ধেকেরও কম।
কোম্পানিটি এই ফলাফলগুলোকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অতি বুদ্ধিমত্তার দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। মূলত চিকিৎসা সংক্রান্ত যুক্তি ও সেবার সমন্বয়ে শীর্ষস্থানীয় ক্লিনিক্যাল দলগুলোকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা সম্পন্ন এআই সিস্টেম তৈরির লক্ষ্যেই তারা কাজ করছে।
তবে এই পরীক্ষাগুলো বাস্তব ক্লিনিক্যাল অনুশীলনের পরিবর্তে সিমুলেশন বা কাল্পনিক কেসের ওপর চালানো হয়েছিল এবং চিকিৎসকদের এই তুলনামূলক দলে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
মাইক্রোসফট স্বীকার করেছে যে, প্রকৃত রোগী সেবার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তিটি কেমন পারফর্ম করে তা নিশ্চিত করতে ক্লিনিক্যাল পরিবেশে এর মূল্যায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি বোস্টনের বেথ ইজরায়েল ডিকনেসি মেডিকেল সেন্টারের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য গবেষণার মাধ্যমে এই সিস্টেমটির মূল্যায়ন করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই গবেষণার মাধ্যমে হাসপাতালের পরিবেশে চিকিৎসকদের রোগ নির্ণয়ের সঙ্গে এই সিস্টেমের তুলনা করা হবে।
