টিকটকের ক্ষতিকর ‘ফর ইউ’ ফিডের নেতিবাচক প্রভাবের জেরে প্ল্যাটফর্মটি ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইউরোপীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যবহারকারীদের অতীতের দেখা ভিডিও ও লাইকের ওপর ভিত্তি করে একই ধরনের ক্লিপ বারবার দেখিয়ে এই প্ল্যাটফর্মটি তাদের একটি চক্রের মধ্যে আটকে ফেলছে।
প্রযুক্তির সার্বভৌমত্ব দেখভালের দায়িত্বে থাকা ইউরোপীয় কমিশনের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট হেননা ভিরকুনেন এক বিবৃতিতে এই বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ব্যবহারকারীরা যখনই অ্যাপ্লিকেশনটিতে স্ক্রোল করেন বা কনটেন্টের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করেন, তখন এই অ্যালগরিদম তাদের এক অন্তহীন গোলকধাঁধায় নিয়ে যায়।
কমিশনের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ব্যবহারকারীদের কল্যাণ রক্ষায় টিকটককে আরও বেশি উদ্যোগী হতে হবে, বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অ্যালগরিদমিক ডিজাইনের কারণে ব্যবহারকারীরা বারবার বিষণ্ণতা, একাকীত্ব এবং শারীরিক অবয়ব সংক্রান্ত উপাদানের মুখোমুখি হচ্ছেন।
নিয়ন্ত্রকদের নির্দেশিত আগের ঝুঁকিগুলো মোকাবেলায় টিকটক কিছু পরিবর্তন এনেছে বলে জানিয়েছে ব্রাসেলস। তবে কমিশন এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, এই পরিবর্তনগুলো এখনো পর্যাপ্ত নয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সিদ্ধান্ত দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে টিকটক। কোম্পানির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই ফলাফলগুলো মূলত ভুল এবং এগুলো প্ল্যাটফর্মের গঠনকাঠামো ও ব্যবহারকারী সুরক্ষার প্রতি কোম্পানির প্রতিশ্রুতিকে বিকৃত করে উপস্থাপন করছে।
টেক জায়ান্টটি দাবি করেছে যে, তাদের সম্প্রদায়ের সুরক্ষায় তাদের শক্তিশালী রেকর্ড রয়েছে এবং তারা ব্যবহারকারীদের কনটেন্ট অভিজ্ঞতার ওপর সরাসরি ও স্বজ্ঞাত নিয়ন্ত্রণ দিয়ে থাকে। নিয়ন্ত্রকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, চীনা মালিকানাধীন এই প্ল্যাটফর্মটি যদি সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের বৈশ্বিক টার্নওভারের সর্বোচ্চ ছয় শতাংশ পর্যন্ত আর্থিক জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কোম্পানিটি তাদের আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়ার সুযোগ পাবে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইইউ এক রায়ে জানায় যে, আসক্তি সৃষ্টিকারী ফিচারগুলো ব্যবহারকারী ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কীভাবে ক্ষতিকর হতে পারে, তা পর্যাপ্তভাবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে টিকটক।
একজন ঊর্ধ্বতন ইউরোপীয় কর্মকর্তার মতে, ফেব্রুয়ারির তদন্তটি মূলত নোটিফিকেশনের প্রভাবের ওপর কেন্দ্র করে হলেও সর্বশেষ এই নির্দেশনা সরাসরি মূল অ্যালগরিদমকে লক্ষ্য করে দেওয়া হয়েছে। গত জুলাই মাসে এই জোট টিকটকের বিরুদ্ধে শিশুদের সাইবার বুলিং ও শিকারি আচরণের মতো ঝুঁকির মুখে ফেলার অভিযোগ আনে এবং একই ডিজিটাল আইনের আওতায় মেটাকেও ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ফিড পরিবর্তন করার নির্দেশ দেয়।
