ফিলিস্তিনকে প্রধান অগ্রাধিকার দিয়ে আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং যৌথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। গত শনিবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অনুষ্ঠিত ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার বা ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের ৫২তম অধিবেশন শেষে তিনি এই আহ্বান জানান।
তুর্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এনসোশ্যালের এক পোস্টে এই বৈঠকের মূল বার্তাগুলো বিস্তারিত তুলে ধরেন হাকান ফিদান।
ওআইসির বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে, বিশ্ব ও আঞ্চলিক সংকটগুলোর মুখে পারস্পরিক সংহতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে ফিলিস্তিনসহ মুসলিম বিশ্বের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে একযোগে কাজ করার ওপর তিনি জোর দেন।
বহুপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি বাগদাদে ইরাকি শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমেদি, প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এবং সংসদ স্পিকার হাইবেত হালবুসির সঙ্গে বৈঠক করেন হাকান ফিদান।
তার এই সফরে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ফায়েক জাইদান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেনের সঙ্গেও আলোচনা হয়।
এছাড়াও পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস কমিশনের চেয়ারম্যান ফালিহ আল-ফায়য়াদ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসেম আল-আব্বুদি এবং ইরাকি তুর্কমেন ফ্রন্টের সভাপতি ও ক্রুকুরের গভর্নর মেহমেত সেমান আগাওগ্লুর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, এসব বৈঠকে বাণিজ্য, জ্বালানি ও নিরাপত্তা খাতের সহযোগিতা আরও গভীর করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি তাদের আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানান।
চলমান আঞ্চলিক সংঘাতগুলো নিরসনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলআত্তি এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করেন হাকান ফিদান।
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, তুরস্ক মুসলিম বিশ্বে সংহতি জোরদার করতে, নির্যাতিত মানুষের অধিকার রক্ষা করতে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধিতে গঠনমূলক অবদান রাখতে কাজ চালিয়ে যাবে।
