মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

হিউস্টনে জাপান ১-০ গোলে ব্রাজিলের বিপক্ষে এগিয়ে

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ২৯, ২০২৬, ১১:৪৯ পিএম

হিউস্টনে জাপান ১-০ গোলে ব্রাজিলের বিপক্ষে এগিয়ে

আমেরিকার হিউস্টন স্টেডিয়ামে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ বত্রিশের নকআউট পর্বের অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে শক্তিশালী জাপানের মুখোমুখি হয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, যা বিবিসি নিউজ নিশ্চিত করেছে। প্রথমার্ধের খেলা শেষে এশিয়ান পরাশক্তি জাপান ১-০ গোলের ব্যবধানে ঐতিহ্যবাহী লাতিন আমেরিকান দল ব্রাজিলের বিপক্ষে এগিয়ে থেকে মাঠ ছেড়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচের বিজয়ী দল পরবর্তী ষোলোর রাউন্ডে ইউরোপের নরওয়ে অথবা আফ্রিকার পরাশক্তি আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হবে। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণের মাধ্যমে মাঠের উত্তেজনা বাডিয়ে তোলে তবে জাপানি ফুটবলারদের নিখুঁত কৌশল ও গতিশীলতার সামনে প্রথমার্ধে কিছুটা পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিলীয় রক্ষণভাগ।

ম্যাচের ঊনত্রিশতম মিনিটে জাপানের তারকা খেলোয়াড় কাওরু সানু মাঝমাঠ বা হাফওয়ে লাইনে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের একটি দুর্বল পাস অত্যন্ত চতুরতার সাথে ইন্টারসেপ্ট বা নিয়ন্ত্রণে নেন। বল কেড়ে নেওয়ার পর তিনি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে একক প্রচেষ্টায় সামনের দিকে এগিয়ে যান এবং ব্রাজিলের বিশ্বখ্যাত গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন। সানুর এই চোখ ধাঁধানো এবং আকস্মিক গোলটি হিউস্টন স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার ব্রাজিলীয় সমর্থককে সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে দেয়। এই গোলের মাধ্যমে জাপান ম্যাচে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লিড অর্জন করে যা তাদের পুরো দলের মানসিক আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং ব্রাজিলের ওপর তীব্র মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করে।

তবে ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল করার পাশাপাশি এক বিশাল বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছেন গোলদাতা কাওরু সানু, যা নিয়ে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র আলোচনা চলছে। প্রথম একটি হলুদ কার্ট পাওয়ার পর তিনি পুনরায় একটি ফাউল করায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড অর্থাৎ লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়ার ঝুঁকিতে পড়েছিলেন। রেফারি তাকে মাঠ থেকে বের করে না দেওয়ায় তিনি এখনো মাঠে রয়েছেন যা ব্রাজিলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। এর পরপরই প্রথমার্ধের পঁয়তাল্লিশতম মিনিটে জাপানের আরেক তারকা খেলোয়াড় দাইচি কামাদা ব্রাজিলের একটি বিপজ্জনক কাউন্টার আক্রমণ বা প্রতি-আক্রমণ নিয়মবহির্ভূতভাবে থামিয়ে দেওয়ায় রেফারি তাকে একটি হলুদ কার্ড প্রদর্শন করেন।

রেফারির কড়া নজরদারির মধ্যে প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময় শেষে আরও চার মিনিট অতিরিক্ত সময় বা ইনজুরি টাইম যোগ করা হয়। যা কম স্পষ্ট তা হলো দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল তাদের কৌশলে কী ধরনের পরিবর্তন এনে এই শক্তিশালী জাপানি রক্ষণব্যূহ ভেদ করতে সক্ষম হবে। এর আগে গত অক্টোবর মাসে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে জাপান দল ব্রাজিলকে ৩-২ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করেছিল যার ফলে এই ম্যাচেও তারা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে খেলছে। লাতিন আমেরিকার দলটিকে টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে দ্বিতীয়ার্ধে তাদের পাসিংয়ের গতি এবং আক্রমণের তীব্রতা বহুগুণ বাড়াতে হবে।

banner
Link copied!